জাহিদ হাসান:
তাড়াশ সগুনা চলনবিল অঞ্চলে টানা অতিরিক্ত বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। মাঠ থেকে কষ্ট করে ঘরে তোলা ধান ও অন্যান্য ফসল ঠিকমতো শুকাতে না পারায় অনেকেই আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। অন্যদিকে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাজারে বেড়েছে মানুষের ভিড় ও ব্যস্ততা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকদিনের অনবরত বৃষ্টিতে উঠান, রাস্তা ও খোলা জায়গা কাদায় ভরে গেছে। ফলে ধান শুকানোর উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় অনেকেই পলিথিন টানিয়ে বা ঘরের ভেতরে ফসল সংরক্ষণের চেষ্টা করছেন। তবে এতে ধানের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষক আব্দুল করিম বলেন, “রোদ না থাকায় ধান শুকাতে পারছি না। ভেজা ধান বেশি দিন রাখলে নষ্ট হয়ে যাবে। এখন চিন্তায় আছি কিভাবে বাজারে বিক্রি করবো।”
এদিকে বৃষ্টির কারণে গ্রামীণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ী ও কৃষকরা। অনেক এলাকায় ভ্যান ও ছোট যানবাহন চলাচল কমে গেছে। এতে পরিবহন খরচও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে ঈদ সামনে রেখে হাট-বাজার ও বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে। কাপড়, জুতা ও কোরবানির পশুর বাজারে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে কেনাবেচা। বৃষ্টির মধ্যেও পরিবার-পরিজনের জন্য কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বৃষ্টি থাকলেও ঈদের কেনাকাটায় মানুষের আগ্রহ কমেনি। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বেচাকেনা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।
কৃষকরা দ্রুত বৃষ্টি কমে রোদ ওঠার প্রত্যাশা করছেন, যাতে ফসল শুকিয়ে নিরাপদে বাজারজাত করতে পারেন এবং ঈদের আগেই কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে গ্রামীণ অর্থনীতিতে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com