বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রামেমহাসড়কে ট্রাক থামিয়ে গরুর ব্যবসায়ীকে মারপিট করে চারটি গরু লুট করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের মাঝগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ট্রাকের চালক ও চালকের সহকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
ডাকাতদের মারপিটে আহত গরু ব্যবসায়ী দবির উদ্দিন (৫৬) পাবনার ইশ্বরদী উপজেলা সারিকাজি গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে। আটক ট্রাকের চালক পাবনার চাটমোহর উপজেলা মথুরাপুর গ্রামের মোতাহার আলীর ছেলে আব্দুল আলীম (৩৩) ও চালকের সহকারী আনকুটিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নান শিকদারের ছেলে স্বাধীন হোসেন (২১)।
আহত গরু ব্যবসায়ী দবির উদ্দিন জানান, তিনি ও তার ব্যবসায়িক অংশীদার বড়াইগ্রামের রাজাপুর বাজারের শাহজাহান কবির কোরবানি সামনে রেখে চারটি গরু কেনেন। পরে শনিবার রাতে বিক্রি করার জন্য ট্রাকে করে গরুগুলো ঢাকায় যাচ্ছিলেন। বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের মাঝগাঁও ইউপি কার্যালয়ের সামনে পৌঁছলে একটি ট্রাক সামনে দাঁড়ায়। তখন চালক গরুর ট্রাকটি থ্রি-হুইলার চলার জন্য ব্যবহৃত পাশর্^সড়কে নামিয়ে দেয়। তারপর গরুগুলো তাদের ট্রাক থেকে নামিয়ে ডাকাতরা ওই ট্রাকে তুলে নেয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে ডাকাতেরা তার চোখে শুকনা মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দিয়ে তাকে পিটিয়ে জখম করে। এরপর তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মাথায় পিস্তল ধরে রাখে। পরে ট্রাক নিয়ে ডাকাতরা চলে গেলে তিনি বাঁধন খুলে পাশের বাড়িতে গিয়ে তাদের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। দবির উদ্দিন অভিযোগ কওে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলেই চালক ও তার সহকারী ট্রাক থামিয়ে দুরে চলে যান।
গরুর অপর মালিক শাহজাহান কবির বলেন, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে আমরা দু’জন মিলে চারটি গরু ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছিলাম। চাটমোহরের চৌধুরীপাড়া এলাকার হাফিজ উদ্দিনের ছেলে আজিমুদ্দিনের ট্রাকে করে শনিবার রাতে ঢাকায় গরু বিক্রি করার জন্য দবির উদ্দিনকে পাঠিয়েছিলাম। আমার ধারণা ট্রাকের চালক ও তার সহকারীকে সঠিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে গরু উদ্ধার করা যাবে।
বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সরল মুরমু বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ট্রাকের চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। খুব দ্রুত খোয়া যাওয়া গরু উদ্ধার করতে করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।
Weekly Chalonbeel Barta chalonbeelbarta.com