গুরুদাসপুরে ১৫ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন 

Spread the love

মোঃ আবুল কালাম আজাদ: “ নিরাপদ মাছে ভরবো দেশ,গড়বো স্মার্ট বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্য বিষয়ে ২৪ জুলাই সোমবার থেকে ৩০ জুলাই রবিবার পর্যন্ত দেশব্যপী জাতীয় মতস্য সপ্তাহ পালিত হচ্ছে । মতস্য সপ্তাহ ২০২৩ উপলক্ষ্যে গ্রহন করা হয়েছে নানান কর্মসুচি।প্রতি বছরেই বিভিন্ন প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখেই মতস্য সপ্তাহ পালিত হয়ে আসছে যেমনঃ- ২০১৮ সালের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল “ স্বয়ংসম্পুর্ন মাছের দেশ,বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ”,২০১৯ সালে “মাছ চাষে গড়বো দেষ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ”” সুনীল অর্থনীতি মতস্য সেক্টরের সমৃদ্ধি” , এবং  ২০২২ সালে-নিরাপদ মাছে ভরবো দেশ, বঙ্গবন্ধুর  বাংলাদেশ”। আশির দশক র্পয্ন্ত ইতিহাসের পাতায় চলনবিল  ছিল মাছ ও পাখির জন্য বিখ্যাত । এই চলনবিলের নানা প্রজাতির মাছের স্বাদ  দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে ছিল অতিব প্রিয় । এখনও তার এতটুকু ব্যতয়  ঘটনোই । জমিদার আমলে চলনবিলে সেই সুস্বাদু কই, মাগুর , শিং, বোয়াল, রুই, কাতলা, মৃগলে , বাউস  আইড় , বাঘাড়, বাচা ,পাবদা , ভেদা, ফাঁসা  সরপুঁটি ইত্যাদি মাছ রাজা , জমিদারর, গোমস্তাদরে উপঢৌকন দিয়  খুশি করে শত শত একর জমি লাখেরাজ,বা পরগনা বন্দোবস্ত  নিয়ে  জমিদার হয়েছে  । আবার  কেউ বিচারক, প্রশাসন , পুলিশ  অফিসারকে এই মাছ দিয়ে জটিল মামলা থেকে খালাস পেয়েছে এমনকি ফাঁসির আসামিও মুক্তি পেয়েছে। এমন নজিরের কথা পুরাতন মানুষদের কাছ থেকে প্রায়শই  শোনা যতে ।

ঐতিহাসিক চলনবিল আর সেই চলনবিল নাই।রাজশাহীর চারঘাটে পদ্মা থাকে  বড়াল নদির উতসমুখ  আর শাখা নদি নন্দকুঁজার উতস মুখে   পানি উন্নয়ন র্বোড তিনটি স্লুইস গটে  এবং  আত্রাই নদির  সাবগাড়ি  বেশানী নদির মুখে  রাবারড্যাম স্থাপন করে এবং  ভুমি দস্যুদের অবধৈ  দখল-দুষনে চলনবিলের প্রানদায়ী   নদীগুলির পানির স্বাভাবিক  প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে   ।চলনবিলের  প্রন সঞ্চালনকারী  স্রোতস্বনী  বড়াল, নন্দকুঁজা, গুমানি আত্রাই,  বশোনী নদির নাব্যতা হারিয়ে মরা খালে পরনিত হয়েছে ।চলনবিলও পানিশুন্য হয়ে মাছের আকাল  দেখা  দিয়েছে । ফলে  মুক্ত পানির প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন একেবারেই হ্রাস পেয়েছে  । শুকনা মওসুমে  চলনবিলের সকল নদ- নদি পানি শুন্য থাকায় প্রকৃতিক মাছের চারন ভুমি, আশ্রয়  কেন্দ্র এবং প্রজনন স্থল বিলুপ্ত হয়ে যায় । এতে ধীরে ধীরে  প্রাকৃতিক সেই সুস্বাদু মাছগুলিও চলনবিল থেকে  হরিয়ে গেছে  ।ক্রমইে  প্রকৃতিক সুস্বাদু মাছের  আকাল দেখা দিয়েছে । চলনবিলের  মৎসজীবি জেলে, জিয়নি,হালদার সহ মাছের ওপর জীবীকা র্নিভরশীল   জাতিপেশার মানুষ মাছের অভাবে অভাবে পৈত্রিক পেশ ছেড়ে দিতে হচ্ছে ।

বৃহত্তর চলনবিলের  প্রান কেন্দ্র  চলনবিলের বুক চিরে প্রবাহিত বড়াল,নন্দকুঁজা,আত্রাই,ছোট আত্রাই, গুমানি,বেশানি,তুলসিগংগা প্রধান   এই নদিগুলির প্রবাহ  বন্ধ হয়ে যাওয়ায়  চলনবিলে  প্রাকৃতিক মাছের চরম ঘাটতি দেখা দেয় । এই নদিই ছিল প্রকৃতিক মাছের প্রধান অভয়াশ্রম, চারনভূমি এবং প্রজনন কন্দ্রে । আশির দশকের আগ র্পয্ন্ত গুরুদাসপুর উপজেলাসহ চলনবিলের  জনসংখ্যার  মাছের চাহিদা অনুপাতে অনেক বেশী উদ্বৃত্ত মাছ আহরন হতো যা দেশের অভ্যন্তরীন চাহিদা মেটাতে সক্ষম হতো ।  অথচ আশির দশকের পর চারঘাটে পদ্মা থেকে চলনবিলের প্রান সঞ্চালনকারী  বড়ালের  উৎসমূখে  অপরিকল্পিতভাবে  অপ্রশস্ত স্লুইস গেট  স্থাপন করে বড়ালসংস্লিষ্ট  নন্দকুঁজা,গুমানি, আত্রাই,ছোট আত্রাই, মুসাখাঁ ,নারদ, তুলসি, বোয়ালিয়া ,বসশানি নদিসহ শাখা- প্রশাখা জোলা, খাল,জলাধার এবং চলনবিলকে র্নিমমভাবে হত্যা করা হয়ছে।ফলে গুরদাসপুর উপজেলাসহ চলনবিলের ১০ টি উপজেলায়  দেখা  দেয় প্রকৃতিক মাছের  চরম  অভাব । গুরুদাসপুর উপজেলার সফল মাছ চাষী উদ্যক্তাদের নিজ  উদ্যগে প্রশাসনিক ও আদালতের  সকল বাধা উপেক্ষা  করে ফসলি জমিতে  পুকুর খনন করে অধিক লাভের আশায় বানিজ্যিকভাবে  বিভিন্ন  উন্নত  প্রজাতির  মাছ আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করে   মাছের উৎপাদনে নিরব বিপ্লব ঘটিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলেছে।আজ বিপ্লবী মাছ চাষী উদ্যক্তাদের সফলতায় মাছ উতপাদনে নাটোর জেলায় শীর্ষে।

নাটোরের চলনবিলের গুরুদাসপুর  উপজেলা মৎস অফিসের তথ্য অনুযায়ী দখো যায়   ৯ টি  নদী যথাক্রমে  নন্দকুঁজা, আত্রাই,ছোট আত্রাই, গুমানি বেশানি মর্জিামামুদ, তুলসি গুড়, বিলকাঠোর , ৩টি খাল এবং ৬ টি বিল থেকে প্রয় একশ মে.টন ৩০ টি প্লাবন ভূমি থেকে ১০১৬ মে. টন  ও অন্যান্য  জলাশয় থেকে ২‘শ মে.টন সহ ১০ হাজার মে.টনেরও  বশেী মাছ উৎপাদন হয়েছে । যার আর্থিক মূল্য  গড়ে প্রতি কেজি ৩০০/ টাকা করে হলে  তিন শত কোটি টাকারও বেশী মাছ উতপাদন হচ্ছে। শুধু গুরুদাসপুর উপজেলা থেকেই প্রতি বছরে  একমাত্র মাছ উৎপাদনের আয় থেকেই  তিন শত কোটি টাকা জাতীয় আয়ের সাথে যুক্ত হচ্ছে ।  আগামিতে আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে । এব্যাপারে গুরুদাসপুর উপজলো মৎস  দপ্তর থেকে গৃহীত  পঞ্চর্বাষকিী পরিকল্পনায় ২০১৭-১৮ সাল থেকে  ২০২১-২২ নাগাদ  মাছের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হছিল ১০৬৭২.৩০ মে. টন ।পঞ্চবার্ষিকীর শুরুতে ২০১৭-১৮ সালে মাছের উতপাদন ছিল ৮হাজার ৭৮০ দশমিক ৬৬ টন। কিন্তু বসেরকারী হিসেবে ২০২১-২২ সাল নাগাদ  প্রকৃত উৎপাদন ২০ হাজার মে. টনেরও বেশী হয়েছে বলে  মাঠ র্পযায়রে জরিপে পাওয়া যায়।

গুরুদাসপুর উপজলোয় ২০১১ সালরে আদমশুমারী অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা ২ লাখ ১৪  হাজার৭৮৮জনের  মাছের চাহিদা ৪ হাজার ৫ শত মে. টন । উপজেলা মতস্য দপ্তরের হিসেবে উৎপাদন হচ্ছে ১৫ হাজার মেট্রিক টন। উপজেলার চাহিদা  মেটানোর পরও  সাড়ে ১০ হাজার  মে.টন উদ্বৃত্ত মাছ ব্যাবসায়ীদের নিজস্ব উদ্ভাবিত  পদ্ধতিতে ট্রাকে করে চলন্ত্মিনি চৌবাচ্চার  পানিতে  জীবন্ত মাছ দেশের  অভ্যন্তরে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছে । এতে মাছ চাষী এবং ব্যাবসায়ীরা অনেক লাভবান হচ্ছে এবং ব্যাপক র্কমসংস্থান বেড়েছে,  কমেছে বেকারত্বের অভিশাপ ।

গুরুদাসপুর উপজেলা  মৎস্য অফিসের বিগত দশ  বছরের মাছ উৎপাদনের   পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে ২০০৮-০৯ সালে ১৪৫০ হেক্টর জলায়তন ৪১১০ টি পুকুরে মাছ উতপাদন ছিল ৬১১০ টন । ২০১০-১১ সালে  পুকুর ছিল ৪২৮০ টি আয়তন ১৪১০ হেক্টর , মাছ উৎপাদন ছিল ৬২৯০ মে.টন । ১১-১২সালে পুকুর ছিল ৪৩২০ টি, আয়তন ১৪৩০ হে. উৎপাদন ৬৫৪২ মে. টন । ১২- ১৩ সালে পুকুর ছিল৪৫০০ টি, আয়তন ১৪৫০ হে, উৎপাদন ৬৭১৫ মে.টন।  ১৩-১৪ সালে পুকুর ছিল  ৪৬২০ টি, আয়তন ১৪৮৮ হে,  উৎপাদন ৭১৩৪ মে.টন । ১৪-১৫ সালে পুকুর ছির ৪৬৮৫ টি,আয়তন ১৫২০ হে. উৎপাদন ৭১৭২ মে.টন। ১৫-১৬ সারে পুকুর ছিল ৪৭৩২ টি, আয়তন ১৫৫৮ হে, উৎপাদন ৭২০০ মে. টন। ১৬-১৭ সালে পুকুর ছিল ৪৭৬২ টি, আয়তন ১৫৬১ হে. উৎপাদন ৭২২৫ মে. টন এবং ১৭-১৮ সালে পুকুর  সংখ্যা দাঁড়য়িছে  ৫৪৩৫ টি যার আয়তন ৮ হাজার হেক্টরে  , মাছ উৎপাদন হযেছে ৯ হাজার মে.টনেএবং ২০২০-২১ সালে পুকুরের সংখ্যা ১০ হাজারে দাঁড়িয়েছে । জলায়তন ১ হাজার ৪ ‘শ হেক্টর থেকে ৫ গুন বেড়ে হয়েছে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর । মাছের উৎপাদনও বেড়েছে ৩ গুন অর্থাৎ প্রায় ১৫ হাজার মে. টন। উপজেলায় মাছের চাহিদা মেটানোর পরও  সাড়ে ১০ হাজার মেট্রিক টন মাছ দেশের অভ্যন্তরিন বাজারে বাজারজাত করা হচ্ছে।

মৎস ও প্রনিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের তথ্যে জানা যায়, গত ১০ বছরে দেশে মাথাপিছু  মাছ খাওয়ার পরিমান প্রায় শতভাগ বেড়েছে।২০১০ সালের সর্বশেষ খানা জরিপে উঠে এসেছে বছরে বাংলাদেশে একজন মানুষ মাত্র ১২ কেজি মাছ খেত। এখন সেটা পৌছেছে ৩০ কেজিতে। মৎস ও প্রনিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের তথ্যে জানা যায়,বাংলাদেশ এখন মাছ চাষে স্বয়ংসম্পুর্ন। বর্তমান বিশ্বে  মাছ উৎপাদনে  বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বিশ্ব খাদ্য সংস্থা পুর্বাভাষ দিয়েছে,২০২২ সাল নাগাদ বিশ্বে যে ৪ টি দেশ মাছ চাষে বিপুল সাফল্য অর্জন করবে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া অনেক প্রজাতির মাছ  গবেষনার এখন সরকারি- বেসরকারি ভাবে উন্নত পদ্ধতিতে চাষ করা হচ্ছে।

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD