আরিফুল ইসলাম,তাড়াশ(সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে দই সহ মুড়ি-মুড়কি, চিড়া-গুড় ও রসনা বিলাসী নানা খাবার বিকিকিনির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে তিন’শ বছরের ঐতিহ্যবাহী দইয়ের মেলা।
শনিবার (৫ ফেব্রয়ারী) দিনব্যাপী জমিদার বাড়ির সম্মুখে রশিক রায় মন্দিরের মাঠে প্রতি বছরের ন্যায় এই মেলাকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে নামিদামি ঘোষদের দই নিয়ে আসার মধ্য দিয়ে দইয়ের মেলা পরিণত হয় মিলন মেলায়।
তাড়াশ পৌর এলাকার রজব ঘোষ জানান, তাড়াশের তৎকালীন জমিদার পরম বৈষ্ণব বনোয়ারী লাল রায় বাহাদুর প্রথম এই দই মেলার প্রচলন শুরু করেছিলেন। জানা যায়, লাল রায় বাহাদুর দই ও মিষ্টান্ন খুবই পছন্দ করতেন। এ ছাড়া জমিদার বাড়িতে আসা অতিথিদের আপ্যায়নে এ অঞ্চলের ঘোষদের তৈরি দই পরিবেশন করা হতো। সে থেকেই জমিদার বাড়ির সম্মুখে রশিক রায় মন্দিরের মাঠে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে তিনদিন ব্যাপী দই মেলা বসাত। প্রতি বছর শীত মৌসুমের মাঘ মাসে শ্রী পঞ্চমী তিথিতে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, পাবনা, নাটোর থেকে ঘোষেরা দই এনে এই মেলায় বসায়।
এই দইয়ের মেলায় আসা এ অঞ্চলের দইয়ের স্বাদের কারণে নামেরও ভিন্নতা রয়েছে। যেমন-ক্ষীরসা দই, শাহী দই, সিরাজগঞ্জের রাজাপুরের দই, শেরপুরের দই, বগুড়ার দই, টক দই, শ্রীপুরী দই রকম হরেক নামে দামের বিক্রি হয় দই।ঘোষেরা জানান, দুধের দাম, জ্বালানী, শ্রমিক খরচ, দই পাত্রের মূল্য বৃদ্ধির কারণে দইয়ের দামও বেড়েছে। তবে মেলা দিনব্যাপী হলেও চাহিদা থাকার কারণে কোন ঘোষের দই অবিক্রিত থাকে না। যার কারণে মেলার আগেই ঘোষেরা দই তৈরিতে মহাব্যস্ত থাকেন।
Weekly Chalonbeel Barta chalonbeelbarta.com