এম এ মাজিদ: এশিয়ার বিখ্যাত বিল চলনবিল। সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোরের ৯টি উপজেলা নিয়ে এই বিলের অবস্থান। বর্ষার কয়েক মাস বিল পাড়ের মানুষ মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে এ এলাকার কৃষক জমি চাষাবাদের উপযোগী করে চলনবিলের কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে মৌসুমি বিভিন্ন প্রকার ফসল চাষ করেন।
এবছর চলনবিলের তাড়াশ অংশের মাগুড়া ও সগুনা, নাটোরের সিংড়া উপজেলার ইটালি, ডাহিয়া, চৌগ্রাম, কলম ও শেরকোল এবং পাবনার চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের অন্তত ৪০টি গ্রামের বেশির ভাগ আবাদি জমিতে কচুরিপানা জমে জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পরেছে। পানি কমার সাথে সাথে কচুরিপানা না সরায় ফসলের জন্য জমি তৈরি করতে পারছে না কৃষক। কচুরিপানার কারণে নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পানি দুষিত হয়ে বিভিন্ন ধরনের রোগ জীবানু ছড়িয়ে পরছে বিল এলাকায়। অন্য বছরগুলোতে এসময়ে চাষিরা জমিতে ধান, গম, শীতকালিন শাক সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের রবি শস্য আবাদে জমি তেরীতে ব্যস্ত হয়ে পরেন। কিন্তু এবার জমিতে প্রচুর পরিমান কচুরিপানা জমে থাকায় তারা জমি চাষ উপযোগী করতে পারছে না। এবং জমি থেকে কচুরিপানা সরাতেই পারছে না।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, বিলে কচুরীপানা জমে থাকায় জমিতে শরিষা আবাদ সম্ভব হবে না। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কারণ বর্ষায় এলাকায় জমিতে কোন আবাদ হয় না। এলাকার কৃষকরা শরিষা আবাদের উপার্জিত অর্থ দিয়ে বোরো চাষ করে থাকে। তাই বাধ্য হয়ে বোরো আবাদে কৃষকদের মহাজনদের কাছ থেকে দেনা করে বোরো আবাদ করতে হবে। তারা আরো জানান, জমিতে কচুরিপানা জমে থাকার কারণে এবছরে বিল এলাকায় শরিষা চাষ অন্য বছর গুলোর তুলনায় অনেক কম হবে। এবিষয়ে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুজ্জাহান বলেন, চলনবিলে বিভিন্ন কারণে বিশেষ করে উজানে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার ফলে আগের মত বিলে ¯্রােত নেই। একারণে কচুরিপানাসহ বিভিন্ন আর্বজনা জমিতে জমে পরে এতে ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে প্রান্তিক কৃষক।
Weekly Chalonbeel Barta chalonbeelbarta.com