গোলাম মোস্তফা
মৎস্য ভান্ডার খ্যাত চলনবিলে ভরা মৌসুমেও দেশীয় মাছের সংকটে লোকসানে পড়েছেন চলনবিলাঞ্চলের শুটকি ব্যবসায়িরা। মাছের অভাবে তাড়াশ, গুরুদাসপুর ও চাটমোহর উপজেলার বেশিরভাগ শুটকির চাতাল এখনও বন্ধই রয়ে গেছে।
শুটকি ব্যবসায়ি দেলোয়ার হোসেন, আব্দুর রহিম, আব্দুল কাদের, হারেচ আলী, শামছুল হক প্রমূখ জানান, স্থানীয়দের পাশাপাশি তাদের অনেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে চলনবিল অঞ্চলে এসে বর্ষা মৌসুমে ব্যবসা করে থাকেন। এবছরও তারা অন্যের জায়গা ভাড়া নিয়ে শুটকির চাতাল করে বসে আছেন মাছের অপেক্ষায়। তবে এখনও পর্যন্ত কাঙ্খিত মাছের দেখা মিলছে না। ২/৪ জন সামান্য পুঁটি মাছ শুকানোর মধ্য দিয়ে শুটকির ব্যবসা শুরু করেছেন মাত্র।
এদিকে শুটকি শ্রমিক কোরবান আলী, আব্দুস সবুর, রাহেলা, কদভানু, খইমন, আয়শা ও রাকিলা জানান, বর্ষা মৌসুমে শুটকির চাতালে কাজ করে স্থানীয় বেশকিছু সংখ্যক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। বিলের পানিতে মাছের দেখা না পাওয়ায় ঐসব দরিদ্র শ্রেণির মানুষের বেশিরভাগই অলস সময় পার করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের পাশে তাড়াশের মহিষলুটি এলাকার একটি শুটকির চাতালে সামান্য কিছু পুঁটি মাছ দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন দেলোয়ার হোসেন নামে ঐ ব্যবসায়ি। সেখানে কাঁচা মাছ শুকানোর শতাধিক বানার মধ্যে মাত্র ৪/৫টি বানায় কিছু মাছ শুটকি করা হচ্ছে। বাকি সবগুলো বানাই মাছের অভাবে ফাঁকা পড়ে আছে।
এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, কাঁচা মাছের সংকটে শুটকির ব্যবসায়িরা লোকসান গুণছেন। চলনবিলে দ্বিতীয়বারের মতো পানি আসতে শুরু করেছে। শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়িরা আশানুরুপ মাছের দেখা পেলে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সক্ষম হবেন। এদিকে এ রিপোর্ট ছাপার সময় বিগত সপ্তাহকাল যাবৎ একটানা বৃষ্টি ও ফারাক্কা খুলে দেয়ার কারণে নদনদীর পানি বৃদ্ধির ফলে চলনবিলে এখন নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে বিলম্বে রোপিত অনেক নিচু এলাকার ইরি-বোরো ধান ডুবে গেছে। পাশাপাশি চলনবিলের পানিতে এমুহুর্তে প্রচুর মাছ আসায় সামনে আবার পানি নেমে গেলে শুটকি ব্যবসায়ীরা আশার আলো দেখছেন।
Weekly Chalonbeel Barta chalonbeelbarta.com