উল্লাপাড়ায় লাহিড়ী মোহনপুর-গয়হাট্টায় দিনমজুরের হাট

ডাঃ আমজাদ হোসেন উল্লাপাড়া প্রতিনিধিঃ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বোরো (ইরি) ধান কাটায় দিন মজুরদের চাহিদা এখন সবচেয়ে বেশি। উপজেলার দশটি ইউনিয়ন এলাকায় পুরোদমে বোরো ধান কাটা চলছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত মজুর ধান কাটতে উল্লাপাড়ায় আসছেন। একজন ধান কাটা মজুরের দিনের হাজিরা এক হাজার টাকা ও সঙ্গে তিন বেলা খাবার দিতে হচ্ছে।

উল্লাপাড়া উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের মধ্যে রামকৃষ্ণপুর, হাটিকুমরুল, সলঙ্গা, বড়হর ইউনিয়ন এলাকায় এরই মধ্যে বোরো ধান কাটা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। এখন উধুনিয়া, বড় পাঙ্গাসী, মোহনপুর, দুর্গানগর, সলপ, পঞ্চক্রোশী, সদর উল্লাপাড়া, পূর্ণিমাগাঁতী, বাঙ্গালা, কয়ড়া ইউনিয়ন এলাকায় পুরোদমে বোরো ধান কাটা চলছে। সব এলাকাতেই মাঠে ধান কাটায় মজুরদের চাহিদা এখন সবচেয়ে বেশি বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ মজুরেরা আট থেকে দশজনের দল বেঁধে দিন হাজিরার বদলে বিঘা চুক্তিতে ধান কাটছেন। বিঘাপ্রতি এরা সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা চুক্তিতে ধান কেটে দিচ্ছেন।

এদিকে, বিগত বছরগুলোর মতো এবারেও গত দিন তিনেক হলো বিভিন্ন উপজেলা এলাকা থেকে দল বেঁধে ধান কাটা মজুরেরা উল্লাপাড়ায় আসছেন। উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর রেলস্টেশন এলাকায় ও গয়হাট্টা বাজারে বিভিন্ন এলাকার মজুরেরা এসে দলবেঁধে থাকছেন। এখান থেকে গৃহস্থেরা ধান কাটায় মজুরদের দাম মিটিয়ে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

লাহিড়ী মোহনপুর-গয়হাট্টায় দিনমজুরের হাট

উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর রেলস্টেশন এলাকায় গত বুধবার শেষ বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রায় দেড়শ’ মজুর আছেন। বিভিন্ন গ্রামের বসতি সাত থেকে দশজনের দল বেধে এরা এসেছেন।কাজীপুর থেকে আসা আটজনের দলনেতা রফিকুল ইসলাম ও রায়গঞ্জ এলাকা আসা একাধিক দলের নেতা আনসোব আলী, ছাইদার রহমান জানান, তাদের এলাকায় ধান কাটা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। এখন তাদের চাহিদা নেই বলে ধান কাটায় মজুরি বেচতে লাহিড়ী মোহনপুর এলাকায় গত বুধবার দুপুরে এসেছেন। গৃহস্থদের সঙ্গে মজুরির দর দাম মিটলে গৃহস্থ বাড়িতে যাবেন। লাহিড়ী মোহনপুর রেলস্টেশন এলাকায় বুধবার শেষ বিকেলে ধান কাটায় প্রতিজন মজুরের দিনের হাজিরা এক হাজার টাকা আর তিন বেলা খাবার দেবেন বলে মিটিয়ে নিতে দেখা গেছে।

মোহনপুর ইউনিয়নের সুজা গ্রামের ছাত্তার মিয়া, এ্যালংজানীর আছমত আলী প্রতিবেদককে বলেন, একজন দিনমজুরের হাজিরা ও খাবার বাবদ মিলে প্রায় এগারো শ’ টাকা পড়ছে। তাদের কথায় এক মণ শুকনো নতুন ধানের এখনকার দাম এগারো শ’ বিশ থেকে সাড়ে এগারো শ’ টাকা। তাদের হিসাবে এক মণ ধানের টাকায় একজন মজুরের দাম হচ্ছে বলে জানান।উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোলাম মোহাম্মদ বলেন, সব মাঠেই বোরো ধানের ভালো ফলন পাচ্ছেন কৃষকেরা। আর সপ্তাহ দেড়েকের মধ্যেই গোটা উপজেলায় বোরো ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন

Attachments area
Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this:

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD