সিরাজগঞ্জ সলঙ্গায় ইফতারের ফজিলত নিয়ে  আলোচনা সভা  অনুষ্ঠিত

ফারুক আহমেদঃ
গত ১৬ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ সলঙ্গা আমশড়া প্রভাষক সাইফুল ইসলামের বাড়িতে আহলে হাদিস বাংলাদেশ ও তার অঙ্গ সংগঠনের উদ্দোগে ইফতারের ফজিলত ও বরকতসহ সহি আকিদার মানুষদের নিয়ে এক পরিচিতি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে
ইফতার অর্থ উপবাস ভঞ্জন করা। ভোর থেকে সারা দিন ‘সাওম’ পালন শেষে সূর্যাস্তের পর প্রথম যে পানাহারের মাধ্যমে উপবাস ভঞ্জন করা হয়, তাকে ‘ইফতার’ বলে। যে খাদ্য বা পানীয় দ্বারা ইফতার করা হয়, তাকে ‘ইফতারি’ বলা হয়। ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার
করা উত্তম। ইফতারের আগেই ইফতারি সামনে নিয়ে অপেক্ষা করা এবং যথাসময়ে ইফতার করা সুন্নাত। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে রোজাদারের দোয়া আল্লাহর কাছে এতই আকর্ষণীয় যে আল্লাহ তাআলা রমজানের সময় ফেরেশতাদের উদ্দেশে ঘোষণা করেন, ‘রমজানে তোমাদের পূর্বের দায়িত্ব মওকুফ করা হলো এবং নতুন দায়িত্বের আদেশ করা হলো, তা হলো আমার রোজাদার বান্দাগণ যখন কোনো দোয়া মোনাজাত করবে, তখন তোমরা আমিন! আমিন!! বলতে থাকবে।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক)।
আল্লাহর সন্তুষ্টি মুমিনের জীবনের লক্ষ্য। আনুগত্যে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন, তাই মুমিনেরা ইবাদতে আনন্দ লাভ করেন। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘রোজাদারের জন্য দুটি খুশি; একটি ইফতারের সময়, অপরটি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়।’ (মুসলিম)। আল্লাহ তাআলার নির্দেশ, ‘তোমরা সন্ধ্যা পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৮৭)। এই আদেশ পালনের আনন্দ প্রকাশিত হয় ইফতারের মাধ্যমে।
ইফতার ও সাহ্‌রিতে প্রয়োজন স্বাস্থ্যসম্মত হালাল খাবার। কারণ, হালাল খাদ্য ও হালাল উপার্জন রোজা, নামাজ ও যাবতীয় ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত। তাই ইফতার ও সাহ্‌রিতে চাই বৈধ উপার্জনের হালাল খাবার
হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, ‘আমার বান্দাদের মধ্যে তারা আমার বেশি প্রিয়, যারা দ্রুত ইফতার করে।’ (তিরমিজি, আলফিয়্যাতুল হাদিস: ৫৬০, পৃষ্ঠা: ১৩১)। নবীজি (সা.) বলেন, ‘যখন রাত্র সেদিক থেকে ঘনিয়ে আসে ও দিন এদিক থেকে চলে যায় এবং সূর্য ডুবে যায়, তখন রোজাদার ইফতার করবে।’ (বুখারি, সাওম অধ্যায়, হাদিস: ১৮৩০)। হজরত সাহল ইবনে সাআদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যত দিন লোকেরা ওয়াক্ত হওয়ামাত্র ইফতার করবে, তত দিন তারা কল্যাণের ওপর থাকবে।’ (বুখারি, সাওম অধ্যায়, হাদিস: ১৮৩৩)।
খেজুর দ্বারা ইফতার করা সুন্নাত; যেকোনো ফল দ্বারা ইফতার করলেও সুন্নাত আদায় হবে। মিষ্টান্ন দ্বারা ইফতার করলেও সুন্নাত পালন হবে। যদি তা–ও সম্ভবপর না হয়, তাহলে যেকোনো হালাল খাদ্যবস্তু দ্বারা এমনকি শুধু পানি দিয়েও ইফতার করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ রোজা রাখলে খেজুর দিয়ে যেন ইফতার করে, খেজুর না হলে পানি দ্বারা; নিশ্চয়ই পানি পবিত্র।’ (তিরমিজি ও আবু দাউদ; আলফিয়্যাতুল হাদিস: ৫৬২, পৃষ্ঠা: ১৩১-১৩২)। পানিমিশ্রিত দুধ দ্বারা ইফতার করার কথাও বর্ণিত আছে। মাগরিবের নামাজের আগে ইফতার করা মোস্তাহাব বা উত্তম।
ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়। কোরআন–হাদিসে উল্লেখ রয়েছে এমন দোয়া উত্তম। এ ছাড়া নিজের ভাষায় নিজের মতো দোয়া করা যায়। ইফতারের আগে এই দোয়া পড়া সুন্নাত, ‘আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু’। অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার জন্য আমি রোজা রেখেছি, আপনার রিজিক দ্বারা ইফতার করছি। (আবু দাউদ, সাওম অধ্যায়)।
ইফতার করা যেমন ফজিলতের, ইফতার করানোও তেমনি বরকতের। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, তার গুনাহ মাফ হয়ে যাবে, সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে এবং রোজাদারের সওয়াবের সমপরিমাণ সওয়াব সে লাভ করবে। তবে ওই রোজাদারের সওয়াব কম করা হবে না।’ সাহাবায়ে কিরাম বললেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)! আমাদের অনেকেরই রোজাদারকে ইফতার করানোর সামর্থ্য নেই।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘পানিমিশ্রিত এক পেয়ালা দুধ বা একটি খেজুর অথবা এক ঢোঁক পানি দ্বারাও যদি কেউ কোনো রোজাদারকে ইফতার করায়, তাতেও সেই পরিমাণ সওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে তৃপ্তিসহকারে আহার করাবে, আল্লাহ তাআলা তাকে আমার হাউসে কাউসার থেকে এমন পানীয় পান করাবেন, যার ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করার পূর্ব পর্যন্ত তৃষ্ণার্ত হবে না।’ (মুসনাদে আহমাদ)।
রমজান মাস সহমর্মিতা ও সমবেদনার মাস। তাই ব্যয়বহুল বাহারি ইফতারের আয়োজন না করে পাড়া–প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, নিকটজন, গরিব মিসকিন, দরিদ্র অসহায়দের ইফতারের বিষয়ে যত্নবান ও সচেতন হওয়া বাঞ্ছনীয়। পথশিশু, ছিন্নমূল ও পথিকদের ইফতারের ব্যবস্থা করাও কর্তব্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইফতার মাহফিল ও ইফতার পার্টির আয়োজন না করে গরিব অসহায়দের দান–খয়রাত করা সমীচীন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তৃপ্তিসহ পেট পুরে পানাহার করল, তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাত যাপন করল, সে মুমিন নয়।’ (মুসলিম)।
ইফতার ও সাহ্‌রিতে প্রয়োজন স্বাস্থ্যসম্মত হালাল খাবার। কারণ, হালাল খাদ্য ও হালাল উপার্জন রোজা, নামাজ ও যাবতীয় ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত। তাই ইফতার ও সাহ্‌রিতে চাই বৈধ উপার্জনের হালাল খাবার।
শাহাজাদপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপরোক্ত  বিষয় গুলি নিয়ে কোরআন ও সহি হাদিস থেকে কথা গুলি বলেন, কোরআন ও সহি হাদিসের গভেষক আমশড়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক মাওলানা সাকাওয়াত হোসেন মাষ্টার, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আমশড়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক মাওলানা মোশারফ হোসেন, আরো উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকার আব্দুল হাকিম, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সলঙ্গা থানা পানি সেচ বিষয়ক সম্পাদক সুলতান মাহমুদ, ধানঘরা মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক আব্দুল বারিক,শিক্ষক আব্দুল কাদের, অাব্দুল মান্নান,বিশিষ্টি সমাজ সেবক আব্দুল খালেক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজসহ এলাকার প্রায় শতাধিক সহি আকিদার মানুষ।

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this:

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD