কাল শুরু ছাত্রলীগের সম্মেলন: পদ পেতে নেতাদের কাছে ধর্ণা

জিটিবি নিউজ ডেস্ক ঃ শনিবার ও রবিবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ২৮ তম সম্মেলন আনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থীরা। এর পাশাপাশি পদ পদবি পেতে তারা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বাসা-অফিসে ধর্ণাও দিচ্ছেন।
ঈদুল ফিতর ও কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে প্রচার-প্রচারণায় বিঘœ ঘটলেও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীরা ঘরে বসে নেই। রাজধানীর অলিগলিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ছবি এবং বর্তমান কমিটির সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড, পোস্টার লাগানো হয়েছে। সভাপতি ও সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন প্রার্থীরা। দিন-রাত ছুটে চলেছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের বাসা ও অফিসে।
এদিকে, ঈদ শেষ হলেও সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও কাউন্সিলরদের পক্ষে রাখতে নানা কৌশল নিচ্ছেন প্রার্থীরা। গত দুই তিনদিনে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে কর্মী-সমর্থকরা বসে গল্প-আড্ডা দিচ্ছেন। আবার কেউ বসে টেলিভিশনে খেলা দেখছেন। তবে আলোচিত প্রার্থী আজিজুল হক রানা, কাজি মেহেদী হাসান দিপু, শামসুল কবীর রাহাত, আনোয়ার হোসেন আনু, সাইফুর রহমান সোহাগ, এইচ এম আলামিন আহমেদ, গোলাম রাব্বানী, এনায়েত হোসেন রেজা, রাকিব হোসেন, নিজামুল ইসলাম দিদার, দারুস সালাম শাকিলের সমর্থকরা প্রার্থীদের ভাল-মন্দ নিয়ে অন্যান্যের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় মেতে উঠেছেন।
জানাতে চাইলে ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আসন্ন সম্মেলনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দুই পদের প্রার্থী আজিজুল হক রানা বলেন, ‘আমি তেমন কোনো প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি না। সবার সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করছি। আমি সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হবো কি না সে ক্ষেত্রে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
সভাপতি পদে আরেক প্রার্থী কাজি মেহেদী হাসান দিপু বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতেও আমি ঘরে বসে নেই। নেতা-কর্মীদের কাছে যাচ্ছি। আমি বিলবোর্ড, পোস্টার-ব্যানার ফেস্টুন করেছি সারা ঢাকায়। আমার নিজ এলাকা গাজীপুরেও বিলবোর্ড, পোস্টার-ব্যানার ফেস্টুন করেছি। ফেইসবুক-এসএমএসসহ সব ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে সকলেরই সমর্থন প্রত্যাশা করছি।
তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দলীয় নেতা-কর্মী সবার সঙ্গেই দেখা করেছি। আমার নিজ এলাকা গাজীপুরে মটরসাইকেলে শোভাযাত্রা করেছি। প্রতিটি মুহূর্ত আমি নেতা-কর্মীদের নিয়ে সংগঠনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। বিগত দিনগুলোতে বিএনপি-জামায়াতের নাশকতামূলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে রাজপথে সক্রিয় ছিলাম। এ সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে আমাকে সবাই সমর্থন জানাবে বলে প্রত্যাশা করছি।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের আরেক সভাপতি প্রার্থী শামসুল কবীর রাহাত বলেন, ‘নেতাকর্মীদের সঙ্গেই সময় কাটাচ্ছি। বৃষ্টির কারণে অনেকের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি। তাই এখনও ঈদ শুভেচ্ছা জানাচ্ছি নেতাকর্মীদের। নানাভাবেই যোগাযোগ রাখছি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে। মোবাইলে- ফেসবুকে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করছি।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালনকারী বর্তমান কমিটির দপ্তর সম্পাদক শেখ রাসেল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ২২২ জন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে সভাপতি পদপ্রার্থী ৭৪ জন, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ১৪৮ জন।’

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this:

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD