বীরমুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ শুকুর মাহমুদ এর ৭১তম জন্ম বার্ষিকী

যুগের নন্দিত কথা সাহিত্যিক ও কলামিষ্ট

এস. কে. কর্মকার

যুগের নন্দিত কথাসাহিত্যিক ও কলামিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ শুকুর মাহমুদ এর ৭১তম জন্ম বার্ষিকী। ১৯৫২ সালের ০৯ নভেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলাধীন চরবেলতৈল গ্রামে সৈয়দ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা সৈয়দ মকবুল হোসেন, মাতা সৈয়দা পরশতোলা বেগম। পিতামহ ডাক্তার আয়েনল্লাহ, (মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরতœ এর জেষ্ঠভ্রাতা) মাতামহ খন্দকার ইসমাইল হোসেন। সৈয়দ শুকুর মাহমুদরা চার ভাই দুই বোন। তাদের মধ্যে তিনি চতুর্থ সন্তান। তিনি বংশানুক্রমে সাহিত্যের ধারা অব্যহত রেখেছেন। দরিদ্র সংসার বাল্যকালে পিতৃহারা হন, বিধবা মায়ের সংসার পরিচালনা করতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা গ্রহণের তেমন কোন সুযোগ হয়নি। অপ্রাপ্ত বয়সে শিশু শ্রমের মাঝেও শিক্ষার অদম্য চেষ্টায় সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন। তিনি জানান তাঁর শিক্ষক বা কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা গ্রহনের কোন সুযোগ হয়নি। তিনি নিজেই নিজের শিক্ষাক নিজেরই ছাত্র নিজে। যে মানুষটি কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত না হয়েও বর্তমান যুগের নন্দিত কথাসাহিত্যিক ও কলামিষ্ট তিনি একাধারে কবি, কলামিষ্ট ও সাহিত্যিক। তিনি যখন যা ইচ্ছে করেন তাই লিখতে পারেন এবং প্রকাশিত হয়।

তাঁর শৈশবকাল ও শিক্ষা:
সৈয়দ শুকুর মাহমুদ শিশুকালে শিক্ষা গ্রহণের সময় তাঁর পিতার কাছে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন। প্রতিবেশী শিশুদের সাথে নিজ গ্রাম, চরবৈলতৈল ফ্রি প্রাইমারি স্কুলে যেতেন, শিক্ষা গ্রহণ করতে। তখন ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা উপকরণ ছিল মদনমোহন তর্কলংকার লেখা শিশু শিক্ষা প্রথমভাগ।লেখার উপকরণ ছিল কলাপাতা আর বাঁশের কঞ্চির কলম । বিদ্যালয়ে যেতে পিতা বাঁশ বাগান থেকে কঞ্চি কেটে কলম বানিয়ে কলাপাতা দিয়ে বিদ্যালয়ে পাঠাতেন। তখনকারসময়ে ছাত্র-ছাত্রীরা কলাপাতে কঞ্চির কলম দিয়ে লিখে শিক্ষকের টেবিলে জমা দিত, তা দেখে শিক্ষকগণ নাম্বার দিতেন। এভাবে শিশু শ্রেণির পড়ালেখা হতো। শিশু শ্রেণি পাশ করে প্রথম শ্রেণিতে পাঠ্যবই ছিল মদনমোহনের শিশু শিক্ষা দ্বিতীয় ভাগ। লেখার উপকরণ বনের কলম দিয়ে কাগজে লেখা আর ছিল বাজার থেকে বড়ি কালি অথবা পাতা কালি এনে পানি দিয়ে গোলায়ে দোয়াতে ভরে বনের কলম চুবায়ে লেখা হতো। এভাবে প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উঠলে একই কাগজ-কলম দিয়ে লেখা হতো। কখনো কখনো পাথরের তৈরী শ্লেট আর পেনসিল দিয়ে লেখা হতো। সে লেখা জমা দেয়া হতো শিক্ষকের টেবিলে। শিক্ষক লেখা দেখে নাম্বার দিতেন। এভাবে ছিল তখনকার শিক্ষা ব্যবস্থা। সেই শিক্ষা পরিবেশেই তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।সৈয়দ শুকুর মাহমুদ গ্রামের পাঠশালা চরবেলতৈল ফ্রি প্রাইমারি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণি হতে পরীক্ষা দিয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে শতভাগ নাম্বারে উত্তীর্ণ হলেন। এসময়ে তাঁর পিতা সৈয়দ মকবুল হোসেন অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। দূরারোগ্য ব্যাধি যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় এক বছর ভুগে অকাল মৃত্যুবরণ করেন। পিতার মৃত্যুতে পরিবারের সকলেই অসহায় হয়ে পড়ে। নানা প্রতিকূলতায় তাঁর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়।সংসারে উপার্জনশীল কেউ নেই,অন্যদিকে পাকিস্তানের দু:শাসন পূর্ব-পশ্চিম পক্ষপাতিত্ব বিচারে পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালিরা নানা অভাব অভিযোগে নির্যাতিত। তখন দ্রব্যমূল্য কম থাকলেও অভাব থাকতো নিত্য সঙ্গী। ঠিক সে মুহূর্তে সৈয়দ শুকুর মাহমুদ এর পরিবার অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে। নিরুপায় হয়ে সেই শিশু সন্তানকেই সংসারের হাল ধরতে হয়। বিত্তশালী কৃষকদের বাড়িতে গরুর রাখাল হিসেবে চাকরি শুরু করেন। মাসে তিন টাকা বেতনে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।
পর্যায়ক্রমে ৩ টাকা ৪ টাকা এভাবে মাসে ১৫ টাকা পর্যন্ত দশ বছর কেটে যায় কৃষিকর্মে ,তবুও তাঁর শিক্ষার আগ্রহ ঘুমিয়ে যায়নি,শিক্ষার অদম্য চেষ্টা নাড়াদিতেথাকেতারমাঝে।মনিবেরছেলেমেয়েদের লেখাপড়া দেখে তাঁদের পাশে গিয়ে বসতেন। বই খাতা কলম নিয়ে পড়ালেখার চেষ্টা করতেন। কিন্তু মনিব গৃহিনী তা সহ্য করতে পারেনি। বকুনী আর মার খেতে হতো তাকে। তবুও থেমে যায়নি তাঁর শিক্ষার আগ্রহ। মায়ের নিকট থেকে কেরোসিন তেল আর কুপি বাতি এনে গো-শালায় বসে রাত জেগে লেখাপড়া করতেন। তাঁর পড়ার কোন সঙ্গী-সাথি ছিল না। গো-শালার গরুরাই সঙ্গ দিতো। কোনো ওস্তাদ বা শিক্ষক ছিল না। তিনি নিজেই নিজের শিক্ষক। তাঁর বিদ্যালয়ে মানসম্পন্ন কোন আসবাবপত্র ছিল না। গোয়াল ঘরের মেঝেতে পাটের চট অথবা ছিন্ন পরিত্যাক্ত মাদুর তাও আবার কখনো কখনো মনিব গৃহিনী এসে বাতি নিভাইয়ে দিয়ে বলতো রাত জাগলে সকালে কাজের ক্ষতি হবে।
এত প্রতিকূল পরিবেশে লেখাপড়া করে তাঁর শিক্ষা ও জ্ঞানের যাচাই করতে পিছনে ফেলা আসা ১০ বছর পর গ্রামের সেই পাঠশালায় বছরের শেষ ভাগে (বর্ষা মৌসুমে) এসে পঞ্চম শ্রেণিতে বিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে ভর্তি হন। সহপাঠিদের সাথে বেমানান শিক্ষক বয়সী ছাত্র তিনি। দশ বছর তিনি নিজে শিক্ষকতা করে নিজের ছাত্রকে কতটুকু শিক্ষিত করতে পেরেছেন তার পরীক্ষা নিতেই পুনরায় পাঠশালায় ভর্তি। শিক্ষাবর্ষের শেষ ভাগে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পরীক্ষা দিলেন। শুধুমাত্র ইংরেজি ব্যতীত সকল বিষয়েই শতভাগ নাম্বার পেলেন। কারণ তার শিক্ষক ইংরেজিতে ততো অভিজ্ঞ নয়। তিনি যখন পুনরায় বিদ্যালয়ের ছাত্র হলেন তখন গ্রাম বা এলাকার নিন্দুকেরা উপহাস করেছিল। নিন্দুকদের সমালোচনা করারই কথা। একজন শিক্ষক বয়সী ছাত্র তদুপরি গরুর রাখাল। পরে যখন তাঁর পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলো তখন নিন্দুকেরা আবার সুর বদলে দিয়ে বলতে লাগল, আমরা এমনটাই আশা করেছিলাম। তারাই আবার প্রশংসা করতে থাকে। তাঁর এতো সুন্দর ফলাফল দেখে শিক্ষকগণ ও গ্রামের অনেকেই উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিলেন। কিন্তু তিনি রাজী হননি। কারণ সংসারের নির্মম যন্ত্রণা হাতছানি দিচ্ছে বার বার। এখানেই তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পরিসমাপ্তি ঘটেছিল।
তাঁর নামের দলিল:
প্রিয় পাঠকদের জ্ঞাতার্থে দু‘টি কথা না লিখলেই নয়, পূর্বে বাঙালি সমাজ ও সংস্কৃতিতে নিয়ম ছিল সন্তানের নাম রাখার ক্ষেত্রে মায়ের নামের প্রথম বর্ণ বা প্রথম শব্দ দিয়ে ছেলে সন্তানের নাম রাখা হত। পিতার নামের প্রথম বর্ণ বা প্রথম শব্দের সাথে মিল রেখে মেয়ে সন্তানের নাম রাখা হত। একটি সন্তান জন্ম নেয়ার পর আদর করে একাধিক নাম রাখা হয়, পর্যায়ক্রমে যে কোন একটি নামে পরিচিতি লাভ করে। কথা সাহিত্যিক সৈয়দ শুকুর মাহমুদ এর জন্মের পর তিনটি নাম রাখা হয়। যেহেতু তাঁর মায়ের নাম পরশতোলা বেগম। সে সূত্রে মায়ের নামের প্রথম বর্ণ দিয়ে সন্তানের নাম রাখা হয় পরান আলী। অন্যদিকে এই সন্তানের পূর্বে একাধিক সন্তান মারা যাওয়ার পর তাঁর জন্ম হয়। সে জন্য এ সন্তানটিকেআল্লাহর রহমত মনে করে পিতা-মাতা সন্তানের নাম রাখেন রহমত উল্লাহ। তিনি বাংলা ১৩৫৯ সালে ২৫ কার্তিক মোতাবেক ১৯৫২ সালের ৯ নভেম্বর শুক্রবার জন্মগ্রহণ করেন, সে মোতাবেক তাঁর নাম রাখা হয় শুকুর মাহমুদ। পরবর্তীকালে তাঁর অন্য দু‘টি নাম ঢাকাপড়ে যায়। বর্তমানে তিনি শুকুর মাহমুদ নামেই পরিচিত।তিনি বংশগত ভাবে সৈয়দ উপাধির দাবিদার। এ জন্য তার নামের পূর্বে সৈয়দ লিখেন। যেহেতু তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সনদ পাবার সম্ভাবনা নেই, তাই নামের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যন্য সনদের ভিত্তিতে তাঁকে শনাক্ত করাযায়। তাঁর লেখা- লেখি প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত সকল লেখাই গাজী বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ শুকুর মাহমুদ লেখা দেখা যায়। তবে জাতীয় পরিচয় পত্রে সৈয়দ শুকুর মাহমুদ, মুক্তিযোদ্ধা গেজেট ও মুক্তিযোদ্ধা সনদেও শুধু মাত্র সৈয়দ শুকুর মাহমুদ নামই লেখা আছে। সে সূত্রে তাঁর জীবনী গ্রন্থে গাজী না লিখে সৈয়দ শুকুর মাহমুদ লিখলাম।
পৈতৃক সম্পদের রেকর্ড ও ক্রয়-বিক্রয়ের দলিলে তাঁর নাম সৈয়দ শুকুর মাহমুদ। সন্তানাদির শিক্ষা সনদে পিতৃ পরিচয়ে সৈয়দ শুকুর মাহমুদ লেখা আছে। ১৯৬৯ সালে আনসার প্রশিক্ষণ সনদে সৈয়দ শুকুর মাহমুদ। জাতীয় পরিচয় পত্রে সৈয়দ শুকুর মাহমুদ। মুক্তিযোদ্ধা গেজেট ও সনদে সৈয়দ শুকুর মাহমুদ লেখা রয়েছে। জাতীয় পরিচয় পত্র নং ৮৮১৬৭১২৪৬৩৪৬৮। মুক্তিযোদ্ধা গেজেট নং-২৭৫৬/০১-১২-২০০৫। মুক্তিযোদ্ধা সনদ নং-ম ৩/৩১/২০২/২০৪২ এবং তারিখ-০৬-০৬-২০০৬। মুক্তিযুদ্ধ কালীন দেশে এগারটি সেক্টরের মধ্যে তিনি ৭ নং সেক্টরের অধিনে যুদ্ধকালীন কমান্ডার আব্দুস সাত্তার কুদরতী(যুদ্ধাহত) এফএফ দলের সাথে যুদ্ধ করেছেন বলে যুদ্ধকালীন কমান্ডার ও সহযোদ্ধাদের প্রদত্ত সনদ সূত্রে প্রমাণিত।
বংশ পরিচয়:
বিভিন্ন তথ্য ও গবেষণার ভিত্তিতে জানা যায় মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরতেœর পূর্ব পুরুষের আদি বাসস্থান ইরাকের বাগদাদে। স¤্রাট আওরঙ্গজেবের রাজত্বকালের শেষ দিকে ইরাক থেকে কিছুসংখ্যক মুসলিম ইসলাম ধর্ম প্রচারের মিশন নিয়ে ভারতবর্ষে আসেন। নজিবর রহমান সাহিত্যরতেœর পূর্ব পুরুষ তাদেরই একজন। তারা ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য আজমীর শরিফ আগমন করেন। সেখান হতে জনৈক পূর্ব পুরুষ মুর্শিদাবাদ নবাবের আমন্ত্রণে লাখেরাজ লাভ করে মুর্শিদাবাদ আসেন। শুধু তাই নয়, একই সময়ে জনৈক পূর্ব পুরুষ মুর্শিদাবাদ নবাবের স্টেট ম্যানেজার হিসেবে চাকরিতে নিযুক্ত হন।
পরবর্তীকালে নবাব আলীওয়ার্দী খাঁর শাসনামলে নবাব পরিবারের সুন্দরী রমণীর রূপে মুগ্ধ হয় ম্যানেজারের এক ছেলে, এক সময় তাঁরা প্রেম প্রণয় সূত্রে আবদ্ধ হয়। এ ঘটনা প্রকাশের পর নবাব পরিবারের সাথে ম্যানেজারের মতানৈক্য ঘটে। ফলে ম্যানেজার চাকরি ছেড়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে পাবনা জেলার শাহজাদপুর থানার পাড়কোলা গ্রামে এসে বসতি স্থাপন করেন। একই সময়ে ঐ এলাকায় জমিদারী ক্রয় করে সস্ত্রীক বসবাস করতে থাকেন। নবাব পরিবার থেকে আত্মগোপন করার জন্য সৈয়দ উপাধী গোপন করে সরকার উপাধিতে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীকালে এখান থেকে (পাড়কোলা) উক্ত পরিবারের একদল সদস্য বেলতৈল ইউনিয়নের আগনুকালী বসতি স্থাপন করেন। এই আগনুকালীকে ডক্টর গোলাম সাকলায়েন ভুলবশত: মালতীডাঙ্গা উল্লেখ করেছিলেন। আগনুকালী হতে মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরতœ এর উর্দ্ধতন তৃতীয় পুরুষ (তাঁর দাদা) মৌলভী মুল্লুক চাঁদ হুড়াসাগর নদীর বুকে জেগে উঠা চর অর্থাৎ চর বেলতৈল গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। মৌলভী মুল্লুক চাঁদের ডাকনাম মেলু মৌলভী। উত্তরকালে হুড়াসাগর নদী মারা গেলে ধীরে ধীরে আরও অনেক বসতি গড়ে ওঠে। আজকের সময়ে যেমন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন রাস্তা-ঘাট হয়েছে, তখনকার সময়ে ছিল না তেমন রাস্তা-ঘাট। যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল একবারেই অনুন্নত। মরা নদীর বিভিন্ন চর-আড়ির ফাঁকে ফাঁকে বিল-ঝিল, হাওর-বাওর, খাল-জোলা হয়ে থাকতো। সেথায় কচুরিপানা আর শাপলা-শালুকের মধ্য দিয়ে যোগাযোগের মাধ্যম ছিল বর্ষা মৌসুমে নৌকা,শুষ্ক মৌসুমে চলতো গরুর গাড়ি। সেই গ্রামেই জন্ম হয়েছিল বাংলা সাহিত্যের অমর কথাশিল্পী কালজয়ী উপন্যাসিক মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরতেœর। অর্থাৎ সৈয়দ শুকুর মাহমুদ-এর উর্ধতন তৃতীয় পুরুষ দাদা।
মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরতেœরা ছিলেন পাঁচ ভাই এক বোন। যথাক্রমেÑ ১। ডা: আয়েন উল্লাহ, ২। দেলবার রহমান, ৩। মোহাম্মদ নজিবর রহমান (সাহিত্যরতœ), নজিবর রহমান এর ডাকনাম ‘নীলবর রহমান’, ৪ ও ৫ যথাক্রমে আব্দুর রহিম ও কাবিল উদ্দিন। এরা অকালে মৃত্যুবরণ করেন। বোন নূরজাহান চরবেলতৈল গ্রামেই মুন্সি জহির উদ্দিন পন্ডিত এর সাথে বিয়ে হয়। সৈয়দ শুকুর মাহমুদ এর দাদা ডাক্তার আয়েন উল্লাহ তৎকালীন সময়ে সুনাম ধন্য জসময়ী চিকিৎসক ছিলেন। নজিবর রহমান সাহিত্যরতœ এর দাদার নাম ছিল মৌলভী মুল্লুক চাঁদ। তিনি গ্রামের মসজিদে ইমামতি ও মক্তব পড়াতেন। সাহিত্য রতেœর পিতা জয়েন উদ্দিন ডাকনাম জনু, মাতার নাম সোনাবান। নজিবর রহমান সাহিত্যরতেœর প্রথম শিক্ষাগুরু ছিলেন চাচা জায়েদ উদ্দিন যার ডাকনাম জমিন। চাচা জায়েদ উদ্দিন ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ছিলেন।তিনি অনেক কবিতা ও গজল রচনা করেছিলেন। নজিবর রহমান সাহিত্বরত্বের সাহিত্যচর্চায় হাতে খড়ি চাচার নিকট থেকেই।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ শুকুর মাহমুদ এর উর্ধতন চতুর্থ পুরুষ (দাদার চাচা) সাহিত্যিক ছিলেন, দাদাও সাহিত্যিক ছিলেন এবং তিনিও একজন খ্যাতিমান সাহিত্যিক। মোহাম্মদনজিবর রহমান সাহিত্যরতœ এর অগ্রজ ভ্রাতা ডাক্তার আয়েন উল্লাহ এর চার ছেলে,যথাক্রমেÑ লুৎফর রহমান মন্ডিত, আমজাদ হোসেন, মিজানুর রহমান ও মকবুল হোসেন। সৈয়দ মকবুল হোসেনের পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ শুকুর মাহমুদ।
তাঁর কর্মজীবন:
বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি গরুর রাখালি করেছেন আর নিজেকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে ব্যস্ত ছিলেন। সময় ও সুযোগ বুঝে পূর্ব পাকিস্তান আনসার বাহিনীতে যোগ দিয়ে সৈনিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তীকালে দেশের মানুষ যখন কর্মহীন হয়ে পড়ে, দরিদ্রতা ও বেকারত্বে ভুগছিল তখন তিনি চৌহালি উপজেলার এনায়েতপুর বাজারে মুদি দোকানে মাসে পয়ত্রিশ টাকা বেতনে চাকরি পেয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭২ সালে মার্চ মাসের শেষ দিকে এনায়েতপুর বাজারে ফজলার রহমান সাহেবের মুদি দোকানে নতুন চাকরিতে যোগদান করেন।
স্বাধীনতার পর কোন কোন স্থানে কিছু কিছু মুক্তিযোদ্ধা শিবির স্থাপন করেছিল। তখনকার সময়ে অনেকেই শিবিরের মাধ্যমে সামাজিক বিচার ব্যবস্থার ভালো কাজ করত। আবার কিছু কিছু ক্যাম্পের সদস্যরা অন্যায় অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়েছিল। যে কারণে অনেকেই এখনো মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সমালোচনা করার সুযোগ খুঁজে পায়। সে যাই হোক, সৈয়দ শুকুর মাহমুদ এর কর্মজীবনের মালিক যখন জানলেন তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা তখন তিনি ভয় পেয়ে গেলেন। তখন কর্মচারীকে কাজের হুকুম করা থেকে বিরত থাকে, সাহস পায় না। এ অবস্থা বুঝে তিনি মালিককে ডেকে বললেন, আপনি আমাকে কোন কিছুতে ভয় পাচ্ছেন, যা আপনার বর্তমান অবস্থাতে বুঝতে পারছি। কোন বিষয়ে আপনার ভয় থাকলে নির্ভয়ে বলতে পারেন। আমাকে দিয়ে আপনার কোন ভয় নেই। আমি আপনার বিশ্বাস অর্জন করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। এ কথা শুনে দোকান মালিক সৈয়দ শুকুর মাহমুদকে পুরোপুরি মেনে নিলেন। মনে আস্থা ফিরিয়ে আনলেন।
চাকরিতে যোগদানের সময়ে মাত্র পয়ত্রিশ টাকা বেতনে শুরু হয় তাঁর কর্মজীবন।পরবর্তীতে তাঁর যোগ্যতা ও দক্ষতায় মাত্র তিন মাস পর বাৎসরিক হালখাতায় পরবর্তী বছর বেতন বাড়িয়ে ৭৫ টাকা করে। তারপর পরের বছর ১৫০ টাকায় উন্নীত হয়।এভাবে বছর বছর তাঁর যোগ্যতায় বেতন বৃদ্ধি হতে থাকে। প্রথম যোগদানের সময় দোকানটিতে একজন ম্যানেজার ছিল, আর তিনি সহকারি হিসেবে যোগদান করেছিলেন। পরে ম্যানেজার তাঁকেই দায়িত্ব বুঝে দিয়ে অব্যাহতি নেন। তারপর সৈয়দ শুকুর মাহমুদকেই ম্যানেজার পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। সেখানে তিনি চার বছর চাকরি করেন। ৪র্থ বছরে তাঁর বেতন ২৫০ টাকায় উন্নীত হয়।
এলাকাটি যেহেতু তাঁতশিল্প প্রধান, এজন্য তিনি মুদি দোকান ছেড়ে একজন সুতা মহাজনের দোকানে চাকরি নেন। সেখানে চাকরি করে কিছুদিন ব্যবসার ধরণ শিখে নিজেই সুতার ব্যবসা শুরু করেন।তিনি অত্যন্ত সহজ ও সরল প্রকৃতির মানুষ, এ সুযোগে এলাকার কিছু তাঁতী ব্যবসায়ী তাঁর নিকট হতে সুতা বাকী নিয়ে আর ফিরে আসে নি। অবশেষে তার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। মহাজনের অধিনে চাকরি করার আর ইচ্ছে নেই। নিজ গ্রামে বিভিন্ন ব্যবসায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন। তখন এলাকায় প্রচুর পাটচাষ হতো। পাট ব্যবসার দারুণ তুলকালাম ছিল এলাকায়। তিনি পাট ব্যবসা শুরু করেন। পাশাপাশি ধান-চাল ব্যবসা, মনোহরী, মুদিদোকান ইত্যাদি ব্যবসা করতেন। ব্যবসায় অকৃতকার্য হয়ে কিছুদিন বাড়িতে বসে থাকেন। এর মাঝে তিনি ভাবলেন, দেশে বহু এনজিও প্রসারতা বিস্তার লাভ করছে। তখন তিনি মনোনিবেশ করে এনজিও সংঘঠন করতে। তিনি কোন এনজিও এর সাথে সম্পৃক্ত না হয়ে নিজেই একটি এনজিও প্রতিষ্ঠা করেন। দেশে নামি-দামি এনজিও গ্রামীণ ব্যাংক, ব্রাক ও অন্যান্য ছোট ছোট যেসকল এনজিও শিশু কল্যাণ, নারী ও শিশু সেবা আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বিভিন্ন নামিয় এনজিও দেখে তিনিও একটি এনজিও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, এনজিও টির নামকরণ করা হয় পরিবার উন্নয়ন আন্দোলন সংস্থা। যার ইংরেজি নাম ঋধসরষু ফবাবষড়ঢ়সবহ: সাঁবসবহঃ: পড়ৎঢ়ড়ৎধঃরড়হ. (ঋউগঈ)। সংস্থাটি অল্পদিনে দ্রুততার সহিত প্রসার ও প্রচার লাভ করতে থাকে। এর মধ্যে একদিন তিনি ধর্মীয় জালসায় সুদের ভয়াবহতার কথা শুনে অনুসূচনা করতে থাকেন তার পর তিনি এই সুদের সংগঠন থেকেবেড়িয়ে আসতে চেষ্টা করেন। আবার ভাবেন, যেহেতু এই প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠাতা ও মহাপরিচালক আমি। সংস্থাটির সকল আইন-কানুন, নিয়ম-নীতি আমার হাতেই সৃষ্টি করা, এখান থেকে আমি সড়ে গেলেও এর যত সুফল-কুফল আমার উপরই পর্তাবে। এভাবে নানা ভাবনা ভেবে সুকৌশলে সংস্থাটি নিজেই ভেঙ্গে অস্তিত্ব বিলীন করে দিয়ে গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে আসেন। তার পর থেকে তিনি কোন ব্যাংকে হিসাব রাখেন নি, সুদ থেকে দূরে থাকতে।
তিনি আরেকটি সংগঠনের সাথে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত আছেন। সংগঠনটি হলো পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি। এ সংগঠনটি বাংলাদেশ ব্যাপি। এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি আইন বিষয়ক যুগ্ম সম্পাদকের ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি ১৯৮৪ খ্রি. হতে পুনরায় বাংলাদেশ আনসার বাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৬৯ খ্রি. আনসার প্রশিক্ষণ মোতাবেক এ বাহিনীতে অংশগ্রহণ করেন। প্রথমে বেলতৈল ইউনিয়ন আনসার কমান্ডার হিসেবে যোগদান করেন। যোগ্যতা ও দক্ষতার কারণে অল্পদিনের মধ্যে শাহজাদপুর উপজেলা আনসার কমান্ডার পদে পদোন্নতি হয় ১৯৮৪ সালে হতে কর্ম শুরু করেন। তিনি ইউনিয়ন আনসার কমান্ডার পদে থাকাকালিন একদিন আত্মীয় বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছেন। দেখলেন ইউনিয়ন পরিষদের গম বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু ‘অনিয়ম’। তা দেখে তিনি খোঁজ খবর নিয়ে জানলেন সরকারি বরাদ্ধের এক তৃতীয়াংশ গম অন্য গুদামে রাখা হয়েছে।সে গম কালোবাজারির কাছে বিক্রয় করা হয়েছে। তিনি তাঁর বাহিনী সাথে নিয়ে কালোবাজারি সহ পরিষদের অন্যান্যদের আটক করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করেছিলেন। যে কারণে তাঁর পদোন্নতি হয়েছিল এবং তিনি সম্মাননা পদক পেয়েছিলেন। তাঁর দক্ষতায় আনসার বাহিনী থেকে বহু পুরস্কার দেয়া হয়েছে। ১৯৮৪ সালে তিনি (নিজ ইউনিয়ন) বেলতৈল ইউনিয়ন আনসার কমান্ডার হিসাবে যোগদান করেন। এক বছরের মধ্যেই তাঁর পদন্নতি হয়। শাহজাদপুর উপজেলা আনসার কমান্ডার হিসাবে প্রায় ১০ (দশ) বছর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৩ সালের জুন মাসে গাজীপুর জেলার সফিপুর আনসার একাডেমিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ২০০৪ সালে জুন মাস পর্যন্ত এ দায়িত্বে ছিলেন। তার দায়িত্ব পালন করা কালে সংশ্লিষ্ট উপজেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা অফিসার কর্তৃক অনিয়ম, দূর্নীতি ও অসামাজিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করে তিনি যথাযোগ্য প্রতিকার না পাওয়ায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।তিনি উপজেলা আনসার কমান্ডার হওয়ার সুবাদে সরকার অনুমোদিত উপজেলা পর্যায়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প তদারকির সুযোগ পান। এতে ঐ বিষয়ে তিনি দক্ষতা অর্জন করেছেন।বর্তমানে তিনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসে অলিখিত বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে আসছেন। প্রকল্প জরিপ করা, প্রকল্প দেখাশোনা ও প্রকল্পের চূড়ান্ত কাজ করে আসছেন। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড জরিপ করা ও প্রকল্প বিষয়ক সকল কার্যক্রম করে আসছেন। তাতে মনে হয় তিনি একজন দক্ষ প্রকৌশলী। এ কাজের জন্য তাঁর নিজেস্ব একটি অফিস রয়েছে এবং সেখানে ২/৩ জন কর্মচারী রয়েছে। তাঁর ব্যক্তিগত অফিসে গেলে মনে হয় তিনি সরকারিকোন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। ভাবতে অবাক লাগে যিনি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী নন, কোন শিক্ষকের ছাত্রও নন।তিনি যখন কারও স্বাস্থ্য বিষয়ে পরামর্শ দেন তখন মনেহয় তিনি একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার। তিনি যখন কাউকে আইনী পরামর্শ দেন তখন মনে হয় তিনি আইন পেশায় একজন সিনিয়র এ্যাডভোকেট। সৈয়দ শুকুর মাহমুদ যখন প্রকল্প বিষয়ে পরামর্শ দেন বা প্রকল্প উন্নয়নে সহযোগিতা করেন তখন মনেহয় তিনি একজন সিনিয়র প্রকৌশলী। আবার ধর্মীয়-সামাজিক বিষয়ে যখন পত্র-পত্রিকায় কলাম আকারে লেখেন বা প্রকাশিত হয় তাঁর লেখা পড়ে মনে হয় তিনি একজন যোগ্য আলেম।
কারাবাসের ঘটনা: সৈয়দ শুকুর মাহমুদ যেমন সহজ-সরল, অন্যদিকে অন্যায়ের প্রতিবাদী। সত্য ও উচিৎ কথা কাউকে ছাড়েন না, গ্রামের এক প্রভাবশালী ভূমি দখলের প্রতিবাদ ঐ প্রভাবশালী একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে তিনি কারাবাসী হন। কারাগারে গিয়ে তিনি অঝোরে কাঁদতে থাকেন। তাঁর এ অবস্থা দেখে একজন কারারক্ষি খোঁজখবর নিয়ে তাঁর বিষয়ে অবগত হয়। এবং ঐ কারারক্ষি তাকে শান্তনা দিয়ে বলেন, মানুষের জীবনের কোন ঘটনাতেই ভেঙ্গে পড়তে নেই । যা হয় সব আল্লাহ’র পক্ষ থেকেই হয়। খবর নিয়ে জানলাম, আপনি অনেক জ্ঞানের অধিকারী, অনেক কিছু জানেন। তবে এই জেল জগৎ বিষয়ে আপনি কিছু জানতেন না। আর এ জেল জগতে ভিতর-বাহির জানার জন্যই মওলা আপনাকে পাঠিয়েছেন কারাগারে, প্রশিক্ষণ নিতে। এ বিষয়ে তাঁর কাছে জানা গেছে তিনি বলতেন, কারাগারে না গেলে বুঝতে পারতাম না ঐ জেল জগৎ কেমন। সেখানকার মানুষের জীবন-যাত্রা বিষয়ে অবগত হয়েছি।
সাহিত্য সমাচার:
এ যাবৎকাল তার লেখা সামাজিক উন্যাসগুলোর মধ্যে “কে দায়ী?”, দু:সাহসী নারী, সত্যই তুমি নারী, ক্ষণিকের স্মৃতি, ধৈর্যই সতীত্বের অলংকার উল্লেখযোগ্য; কাব্যগ্রন্থের মধ্যে এ কান্নার শেষ কোথায়, গোধূলি বেলায় দুটি কাব্য গ্রন্থ; ঘুণে খাচ্ছে সভ্য সমাজ, সামাজিকতার উৎসবে মুসলিম সমাজ কোথায়?, সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কার মূলক বই, সাহিত্যচর্চায় কবিতা, গল্প ও উপন্যাস লেখায় তিনি খ্যাতিমান লেখক হিসেবে পরিচিতি, সুনাম ও জশ অর্জন করেছেন। তাঁর প্রকাশিত প্রথম বই “কে দায়ী ?” সামাজিক উপন্যাস যা ২০০২ সালে প্রকাশিত। চৌষট্টি পৃষ্ঠার এই বই ৩০ টাকা মূল্য দেখা যায়। উপন্যাসটিতে সমাজের বঞ্চিত অবহেলিত একজন পতিতা নারীর কথা এমনভাবে উল্লেখ করেছেন যা পাঠ করে সমাজের স্বার্থান্বেষী মহলের বিবেকে যদি একটু নাড়া দেয় তাতে সমাজ সংস্কারে পাথেয় হবে। পিতামাতাহীন সুন্দরী একটি বালিকা স্বার্থান্বেষী মানুষদের স্বার্থপরতা ও উদাসীনতা সমাজ থেকে বিতাড়িত হয়ে অন্ধকার সমাজে চলে যাচ্ছে।
একটি নারী অসামাজিক কাজে ধরা পরে যখন তার জন্ম ও বংশ পরিচয় নিয়ে কথা উঠেছিল তখন সে নারী বলেছিলÑ আমি খারাপ, যত পারেন আপনারা আমাকে বলুন, আমার বংশ নিয়ে কথা বলবেন না, আমি কোন খারাপ বংশে জন্ম নেইনি, খারাপ হয়েও আমার জন্ম হয়নি। তবে আমার এ খারাপের জন্য কে দায়ী? আদর্শ এক ভদ্র পরিবারে আদরের দুলালী হয়ে আমার জন্ম। পিতা-মাতাকে হারিয়ে যখন আপনজনের কাছে আশ্রয় নিয়েছিলাম, আমার সম্পদ আর স্বার্থের জন্য অসামাজি ও অমানসিক নির্যাতন করে তাড়িয়ে দিয়েছে সেই নামিক আপনজনেরা। তারপর ঠাঁইহীন অবস্থায় ঘুরে কোথাও আশ্রয় পাইনি কোন আপনদের কাছে। পেটের ক্ষুধায় একমুঠো ভাত চেয়ে পাইনি কারও কাছে। আমাকে আহার্য-পানীয় দিলে তাদের ঐ থালা আর পানপত্র ফেলে দিতে হবে। আশ্রয় দিলে বাড়িঘর অপবিত্র হবে। অনাহারে ঠাঁইহীন অনাশ্রয়ে ভাঙ্গা এক স্কুল ঘরে অবস্থান নিয়েছি। মাটির উপরে করেছি বিছানা, বালিশ করেছি ইট। দিনের বেলায় আমাকে সমাজ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল আবার রাতের বেলায় তাদেরই সন্তানেরা আদর করে বুকে তুলে নেয়। সাথে নিয়ে এক থালায় খায়, তাতে কি সমাজপতিরা ঐ সন্তানদের ফেলে দিয়েছে? বইটিতে লেখকের ভূমিকায় লিখেছেন, দেশ, জাতি, সমাজ, ধর্ম চারিটি শব্দের পৃথক পৃথক ব্যাখ্যা ও বর্ণনা আছে। দেশ রক্ষায় দেশ প্রেম, মাতৃভূমির ভালবাসা তেমনি জাতিকে রক্ষা করতে দরকার জাতীয়তাবোধ জাতির ভাষা জাতির নিজস্ব আচার আচরণ। সমাজ ও ধর্ম পাশাপাশি চলে। সমাজ বাদ দিরে যেমন ধর্ম থাকে না,তেমনি ধর্মবাদ দিয়ে সমাজ চলে না। বাঙালি জাতির নিজস্ব মাতৃভূমি আছে তেমনি আছে সমাজ ব্যবস্থা। বিভিন্ন ধর্মের লোক বসবাস করলেও ধর্মীয় শাসন প্রত্যেক জাতিরই আছে।
জাতি, ধর্ম, সমাজ চাপা পড়েছে একশ্রেণীর স্বার্থন্বেষী ব্যক্তিদের কাছে। তারা স্বার্থে মোহে আপন জনকে ঘর ছাড়া করতে পারে। অর্থ আর বিলাসীতার ক্ষেত্রে যদি লক্ষ করা যায় তাতে ধর্ম আর সমাজের অনুমতি কতটুকু আছে? পোশাক ও চালচলনে ধর্ম আর সমাজের খাপ খাইয়ে চলতে হবে।এমনি দুটি অর্থ লোভী নারীর কারণে একটি নিষ্পাপ নারীকে ঠেলে দেয়া হয়েছে পতিতাবৃত্তির সমাজে। দেশে নারী নির্যাতন আইন সংস্কার হচ্ছে বহুবার কিন্তু নারী কর্তৃক নারী নির্যাতিত হচ্ছে অহরহ। তার প্রতিকার কোথায় ?নারীদের নির্যাতনে ঘর ছাড়তে হয়েছে বহু নারীর। অবশেষে সমাজ থেকে হয়েছে বঞ্চিত। বাংলাদেশের রেল ষ্টেশন, লঞ্চ ঘাট, জেলা ও উপজেলা শহরের কোর্ট ভবন চত্বরে লাইসেন্স বিহীন বহু পতিতা আস্তানা করে আছে। এরা সকলেই কি পেশাদার পতিতা ? না– কেউ পেটের দায়ে আবার কেউ নির্যাতনে ঘর ছাড়া হয়ে স্থান পেয়েছে পতিতা সমাজে। তারই মাঝে সমাজের কিছু মুখোশধারী লোকেরা সর্বনাশ করছে রাতের আঁধারে। এমনি একটি অবস্থার শিকার ‘‘কে দায়ী ?’’ গ্রন্থের ঘটনা।
তাঁর লেখা প্রকাশিত ২য় বই ‘‘দূ:সাহসী নারী’’। বইটির প্রকাশ কাল ২৬ জুলাই ২০০৬ বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ৬০ মূল্য ৫০.০০ টাকা মাত্র। বইটিতে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সস্ত্রাসী কর্মকান্ড ও চাঁদাবাজির কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেছেন। যদিও সামাজিক এই ব্যাধি নির্মূল করতে তার পক্ষে অসম্ভব তবুও তিনি কল্পনার মালায় একজন নারীর মাধ্যমে সস্ত্রাসী/চাঁদাবাজকে হত্যা করে সস্ত্রাস নির্মূল করেছেন। যে কারনে বইটির নামকরণ করেছে, ‘‘দূ:সাহসী নারী’’। বইটিতে লেখকের ভূমিকায় লেখা হয়েছে, বিশ্ব যখন এগিয়ে চলেছে বৈজ্ঞানিক উপায়ে, তাঁর সাথে দেশজাতি, নীতি ও ধর্ম ঠিক রেখে তালে তালে এগিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। বিশ্ব নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে, আমিও বিশ্বের সাথে মতবিরোধ নই। তবে নারীর আদর্শতা ঠিক রেখে অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই প্রকৃত মানবতা। বিশ্বে রাজনৈতিক অবস্থা, জাতিগত দ্বন্ধ হিংসা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চলছে। তথা বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক হিংসা প্রতিহিংসা, দলীয় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাজিতে দেশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে।
এদেশের নারী সমাজ স্বাধীন ভাবে রাস্তায় চলতে পারছে না। হাইজ্যাক, ধর্ষন, নারী পাচার ইত্যাদি ঘটনা ঘটেই চলেছে।একজন পরিশ্রমের অর্থ ধরে রাখতে পারছে না। উপার্জিত অর্থ দিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করতে চাঁদা দিতে হয়। নিজস্ব অর্থে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করতে চাঁদা বাজের হামলার স্বীকার, তার প্রতিবাদ করলে মানসম্মান বিনাস হয়। এমনকি জীবন চলে যাচ্ছে বিফলে। এর উপর ভিত্তি করে মুক্তিযুদ্ধের আংশিক স্মৃতি বিজড়তি, স্বাধীনতা উত্তর প্রবাহমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও রাজনৈতিক ছত্র-ছায়ায় চাঁদাবাজীর সমালোচনা পূর্ণ। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জাতিকে সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়ে, পথ নির্দেশনা স্বরুপ ‘‘দু:সাহসী নারী’’ বই খানি রচনা করলাম।বইটিতে দারোয়ান বাহাদুর মিয়ার যে চরিত্র উল্লেখ করেছেন, এটি পড়ে মনে হয় লেখক নিজেই এই বাহাদুর মিয়া। কারণ বাহাদুর মিয়া মুক্তিযুদ্ধের যে স্মৃতি চারণ করেছেন, তা একদিন লেখকের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাই শুনেছিলাম।
তাঁর প্রকাশিত ৩য় বই‘‘সত্যই তুমি নারী’’। বইটির প্রকাশ কাল ২৬ জুলাই ২০০৬। পৃষ্ঠা সংখ্যা ১০২(একশত দুই)। মূল্য ৪০ টাকা মাত্র। মূদ্রিত উত্তর বাংলা প্রসেস এন্ড পিন্টার্স, বাদুর তলা, বগুড়া। বইটিতে নারীর সততা ও ধৈর্য্যশীলতার কথা উল্লেখ করেছেন এবং ধনীর দুলাল সঙ্গদোষে কী ভাবে নষ্ট হয়ে অসৎ পথে অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ে তা উল্লেখ করেছেন। বইটিতে লেখকের ভূমিকায় যা উল্লেখ করেছেন:মহান ¯্রষ্ট বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন। আকশ, বাতাস, চন্দ্র-সূর্য, ফেরেস্তা-জ্বীন এ রকম সতের হাজার নয় শত নিরানব্বাই মাখলুখ। এত কিছু সৃষ্টি করেও তাঁর সাধ মিটেনি। তিনি তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে সৃষ্টি করলেন আশরাফুল মাখলুকাত ‘‘মানুষ’’। পুরুষ আদমকে সৃষ্টি করে বেহেস্তে রেখে দিলেন সত্তর হাজার বছর। তাতেও তৃপ্তি পাননি। প্রেম খেলা খেলতে বাসনা করলেন। মানুষের বংশ বৃদ্ধি করবেন। তিনি ইচ্ছে করলে কাঁঠাল ফলের মত আদমের পিঠি সন্তান ঝুঁলিয়ে দিতে পারতেন, অথবা ইচ্ছা করলে আম ফলের মত ডানায় সন্তান ঝুঁলিয়ে দিতে পারতেন, তা না করে তিনি সৃষ্টি করলেন নারী হাওয়াকে। আদমের মাঝে দিলেন কামশক্তি, হাওয়ার মাঝে দিলে ভাবশক্তি। সেই থেকে নর-নারীর মাঝে সৃষ্টি হয় প্রেম। নারী বিনা নরের জীবন শুকনো পাতার মত মড়মড় হয়ে যায়, তেমনি নর বিনা নারীর জীবনবদ্ধ খাচার পাখির মত ছটফট করে। বৃষ্টিহীন মরু ভূমিতে গাছ যেমন পাতা ঝড়ে যায় শুধু শাখা মেলে মেঘের পানে তাকিয়ে রয় তেমনি একজন নারী যৌবনের বারটি বছর স্বামীর অপেক্ষায় যৌবনের সবকটি পাতা ঝড়ায়ে বসে আছে স্বামীর প্রতিক্ষায়। এমনি একটি গল্প উপহার দেয়ার বাসনায় কলম হাতে নিলাম। আপনাদের দোয়াই একান্ত কাম্য।
৪র্থ প্রকাশিত বই ‘‘এ কান্নার শেষ কোথায়?’’ কাব্যগ্রন্থ। ৫ম ‘‘সামাজিকতার উৎসবে মুসলিম সমাজ কোথায়?’’ সামাজিক ও ধর্মীয় আলোকে। ৬ষ্ঠ ‘‘পশু রাজ্যের বিধান সভা’’ রঙ্গ-ব্যঙ্গ কবিতাপত্র, সমকালিন রাজনৈতিক পেক্ষাপটে বইটিলিখেছেন। ৭ম ‘‘ক্ষনিকের স্মৃতি’’ সামাজিক উপন্যাস। প্রথম প্রকাশ ফেব্রুয়ারি ২০১১। বইটি পড়ে মনে হয় লেখকের নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাকেই রূপক ঘটনা উল্লেখ করেছেন। বইটিতে লেখকের ভূমিকায় যা লিখেছেন:
জীবনে চলার পথে প্রতিদিন ঘটে যাচ্ছে অসংখ্য ঘটনা। অনেক ঘটনাই মনের মাঝে ধরে রাখা যায় না। আবার কিছ কিছু ঘটনা ঘটে যা মানুষের হৃদয়ের মাঝে বাসা বাঁধে। স্মৃতিগুলো মনের মাঝে শিহরণের মত নাড়া দিয়ে উঠে, ঘুণ পোকার মত মনের মাঝে কাটে। এমনি একটি অল্প সময়ের ঘটনা স্মৃতির মাঝে ধরে রাখতে কল্পনার সুতায় অক্ষরের মালা গেঁথে একটি জীবন্ত কাহিনী‘‘ক্ষণিকের স্মৃতি’’ রচনা করে প্রকাশ করলাম।
৮ম ‘‘ঘুণেখাচ্ছে সভ্য সমাজ’’ এটিও সামাজিক ধর্মীয় আলোকে। বইটিতে বর্তমান ও সামাজিক কার্যক্রম সভ্য সমাজের সাথে ও ধর্মীয় আলোকে তুলে ধরেছেন। আমাদের সভ্য সমাজে কোথায় কোথায় ঘুণ লেগেছে তা তিনি লিখনির মাধ্যমে পাঠককে অবহিত করেছেন। তাছাড়াও গবেষনা মূলক এ গ্রন্থটি লেখা পর্যন্ত যে সকল প্রস্তুত করেছেন তা হচ্ছে ‘‘ধৈর্য’ই শতিত্বের অলংকার’’ পান্ডুলিপি সামাজিক উপন্যাস (প্রকাশের অপেক্ষায়)। ‘‘গোধুলী বেলায়’’ কাব্যগ্রন্থ (প্রকাশের অপেক্ষায়)। ‘‘গল্প শুধু গল্প নয় শিশুতোষ’’ এটি শিশুদের জন্য ছোট গল্প। এছাড়াও তাঁর সম্পাদনায় যে সকল সাময়িকী, ম্যাগাজিন সাহিত্যের ছোট কাগজ প্রকাশিত হয়েছে শ্বোপার্জিত স্বাধীনতা, বৈশাখী, বর্ষা, অমর বিজয়, ঈদ, তারার মেলা ও পাতা ঝোড়লেই সব গাছ মরে না। প্রকাশিত হয়েছে এগুলো ছাড়াও জাতীয় ও স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত কলাম, প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা নিয়মিত লিখে যাচ্ছেন।এতদাঞ্চলে বর্তমান সময়ে যে সকল কবি সাহিত্যিক ও লেখকদের বই প্রকাশিত হয়েছে তন্মমধ্যে কবি হেদায়েত আলী বাসুরি বঙ্গরতœ এর পাঁচটি কাব্যগ্রন্থই প্রকাশে সৈয়দ শুকুর মাহমুদের সহযোগিতার কথা স্বীকার করেছেন। কবি আব্দুর রাজ্জাকের তিন টি বই, কবি ইসমাইল হোসেনের ১টি বই ও অন্যান্য অনেক লেখকের লেখা প্রকাশিত হয়েছে তাঁর অনুপ্রেরণায়। ধর্মীয় ও সামাজিক আলোকে যে গ্রন্থটি প্রস্তুত হয়ে প্রকাশের অপেক্ষায় ‘হক্ক ও বাতিলের লড়াই’।
বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতিতে তাঁর অবদান:
বাংলা সাহিত্য ও বাঙালি সংস্কৃতি চর্চা ও উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সময়ে সাহিত্য সম্মেলন, সাহিত্য সংগঠন করে যাচ্ছেন। শাহজাদপুরে প্রথম সাহিত্য সংগঠন তিনিই শুরু করেন। ২০০৮ সালে তাঁর প্রচেষ্টায় শাহজাদপুর সাহিত্য পরিষদ সংগঠিত হয়।এবং তিনি প্রতিষ্ঠা কালীন সময় হতে ২০১০ সাল পর্যন্ত এ পরিষদে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সংগঠনটিতে কিছু অকবি, পদ লোভী লোক সংযুক্ত হওয়ায় সংগঠনটি বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তিনি ঐ সংগঠন বাদ দিয়ে ২০১০ সালে শাহজাদপুর সাহিত্য মেলা নামে আরেকটি সাহিত্য সংগঠন শুরু করেন এবং শাহজাদপুর সাহিত্য মেলার মাধ্যমে বেশ কয়েকটি সংকলণ, ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও চলমান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবন্নতি লক্ষ্য করে বাংলা ভাষা ও বাঙ্গালি সংস্কৃতি সন্নত রাখতে বিভিন্ন সময়ে লিখে যাচ্ছেন। আমার অগভীর জ্ঞানের অক্লান্ত পরিশ্রমে যতটুকু সম্ভব। যুগের নন্দিত কথা সাহিত্যিক কলামিষ্ট প্রাবন্ধিক সৈয়দ শুকুর মাহমুদ এর জীবনী বইটির প্রথম অংশে লিখলাম এবং দ্বিতীয় অংশে প্রকাশিত/অপ্রকাশিত স্থানীয় এবং জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত লেখার মধ্য হতে বিশেষ বিশেষ কিছু অংশ (তাঁর কালি-কলমের কারুকাজ) শিরোনামে লিপিবদ্ধ করলাম।

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this:

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD