তাড়াশে ৫ দিন ব্যাপী ঝুলন উৎসব  

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দিরে প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো জমিদারি রেওয়াজ অনুসারে পাঁচ দিনব্যাপী ঝুলন উৎসব শুরু হবে।রোববার রাত্রি ৮ ঘটিকায় তাড়াশ উপজেলা সদরস্থ শ্রী শ্রী লক্ষী নারায়ন ও গোপাল বিগ্রহ  মন্দিরে ও শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দিরের দোলনায় রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহ স্থাপন করে অধিবাসের মধ্য দিয়ে পূজা-অর্চনা শুরু হবে। এদিকে শ্রী শ্রী রাধা গৌবিন্দ মন্দিরের পুরোহিত মধুসূদন ভট্রচার্য  জানান,  বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোগ-আরতি, ভাগবত গীতা পাঠ ও ধর্মীয় লীলা কীর্তন অনুষ্ঠিত হবে। তাড়াশ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রজত ঘোষ জানান, তাড়াশে রাধাগোবিন্দ মন্দিরটি ১১০৫ বঙ্গাব্দে নির্মাণ করা হয়। দুই একর ছয় শতক জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত মন্দিরটি এখনও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
তৎকালীন জমিদার বনওয়ারী লাল রায় বাহাদুরের আমলে গোবিন্দ মন্দির, শিব মন্দির, ত্রিদল মঞ্চ, গোপাল মন্দির সহ ছয়-সাতটি মন্দির নির্মিত হয়।  তাড়াশ সনাতন সংস্থার সভাপতি সঞ্জিত কর্মকার বলেন, বর্তমানে উৎসবে জৌলুস না থাকলেও ঐতিহ্য রক্ষায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা এখনও ধর্মীয় ঝুলন উৎসবে যোগ দেন। তৎকালীন জমিদারী আমলে প্রবর্তিত ঝুলন উৎসব এতটাই জাঁকজমকপূর্ণ ছিল যে, তা মাসব্যাপী হতো।তাড়াশ উপজেলা সনাতন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক  সনাতন দাস জানান, মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন তাড়াশের চৌধুরাই তাড়াশ জমিদারির প্রতিষ্ঠাতা জমিদারগণ। সময়টা নবাবি আমল। পরবর্তীতে ইংরেজরা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করলে তাড়াশ জমিদারির আরো শ্রীবৃদ্ধি ঘটে। ইংরেজরা খুশি হয়ে জমিদার বনওয়ারি লালকে রায় বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি আরো বলেন, পরবর্তীতে এ জমিদারি তিন তরফে ভাগ হয়ে যায়। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে এরা ভারতে পাড়ি জমান।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, এ জমিদার বংশের অনন্য কীর্তি ১৯০৬ সালে তাড়াশে স্কুল প্রতিষ্ঠা, পাবনায় বনমালী ইনিস্টিউট ও তাড়াশ ভবন নির্মাণ, পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ নির্মাণের জন্য এককালীন এক লাখ টাকা প্রদান, সিরাজগঞ্জ সরকারি বিএল স্কুল নির্মাণ, সরকারি সালেহা ইসহাক গার্লস স্কুলের একটি ভবন নির্মাণ, পাবনার বনয়ারী নগর ফরিদপুর পত্তন ও বৃন্দাবনে তীর্থযাত্রীদের জন্য তাড়াশ সত্র নির্মাণ উল্লেখযোগ্য।
অপরদিকে  শ্রী শ্রী লক্ষী নারায়ন ও গোপাল বিগ্রহ  মন্দিরে সেবা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ সান্ন্যাল জানান, মন্দিরটি বাংলা ১৩০৬ সালের দিকে নির্মাণ করা হয়।  তিনি আরো জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারো ভোগ-আরতি, ভাগবত গীতা পাঠ ও ধর্মীয় লীলা কীর্তন অনুষ্ঠিত হবে।মন্দিরের শহর তাড়াশে সময়ের পরিক্রমায় ৫ দিন ব্যাপী ঝুলন উৎসব, দুগ্ধ জল স্নান উৎসব সহ নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষের তীর্থস্থানে পরিণত হয়। উল্লেখ্য ঝুলন যাত্রা  আগামী ১২ আগষ্ট রাতে শেষ হবে।
Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this:

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD