চাটমোহরে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বিপাকে কৃষক

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি
পাবনার চাটমোহরে চলতি বছর পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে দাম বেশি পাওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটলেও পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বিপাকে পাটচাষিরা। তীব্র খরায় নদী-নালা, জলাশয়, খাল-বিলসহ বিভিন্ন ডোবার পানি শুকিয়ে যাওয়ায় কাঁচা পাট কাটতে পারছেন না এ অঞ্চলের অনেক চাষী। কোথাও কোথাও পানির অভাবে খেতেই শুকিয়ে যাচ্ছে পাটগাছ। যেখানে যেটুকু পানি আছে সেখানেই গাদাগাদি করে পাট জাগ দেওয়া হচ্ছে।
পুকুর, জলাশয়, নদী, ডোবার পানি পচে দূর্গন্ধ বের হচ্ছে। অল্প পানির মধ্যে পাট জাগ দেওয়ার পাশাপাশি পাট ধোয়ার কাজ চলছে পুরাাদমে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চাষি ও কৃষি শ্রমিক পুরুষ ও মহিলারা পাট ছাড়ানো ও ধোয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে পানির কারণে পাটের রং ভালো না হওয়ায় দাম নিয়ে দুশ্চিতায় পড়েছেন কৃষকেরা।উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর চাটমোহর উপজেলায় ৮ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ করা হয়েছে। বাজারে প্রতিমণ ভালো মানের পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩২ শত টাকা। দাম আরো বাড়বে বলে চাষিরা মনে করছেন।
ছোট-বড় খাল-বিলসহ বিভিন্ন ডোবা ও নালার পানি শুকিয়ে যাওয়ায় প্রান্তিক কৃষকরা পাট কাটতে পারছেন না। অনেকেই আবার ভারী বৃষ্টিপাতে বিভিন্ন ডোবা-নালায় পানি ভরাট হওয়ায় আশায় পাট কাটা শুরু করলেও কাঙ্খিত বৃষ্টির দেখা না পেয়ে পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে দুশ্চিতায় পড়েছেন। অনেক কৃষক পাট কেটে জমিতেই রেখে দিয়েছেন।
অনেকেই বাড়ি ও সড়কের পাশের ডোবা, পুকুর ও জলাশয়ে পাট জাগ দিচ্ছেন। বৃষ্টির অভাবে একদিকে পাটচাষিরা যেমন মহাবিপদে রয়েছেন, অন্যদিকে কৃষকরা রোপা আমন ধানও বুনতে পারছেন না। পাট কেটে ওঠানোর পরপরই জমিতে চাষ দিয়ে রোপা আমন ধান বুনেন কৃষকরা।
উপজেলার ডিবিগ্রামের পাটচাষি শমসের আলী বলেন, এ বছর আমি ২ বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেছি। প্রতি বিঘা জমিতে আমার মোট খরচ হয়েছে প্র্রায় ২০ হাজার টাকা। বৃষ্টি কম হওয়ায় পাট কেটে জাগ দিতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। অতিরিক্ত খরচ দিয়ে জমি থেকে অসেক দূরে পাট জাগ দিতে হয়েছে। সেখানেও জাগ দেওয়ার জায়গার অভাব।উপজেলার হরিপুর গ্রামের পটচাষি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় কোথাও পাট জাগ দেওয়ায় মতো পর্যাপ্ত পানি নেই। বড়াল নদীতে গাদাগাদি করে পাট জাগ দিতে হয়েছে। পানি পচে গন্ধ বের হয়েছে। তারপরও পাট জাগ দেওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এ মাসুম বিল্লাহ বলেন, এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় চাষিদের খরচ অন্যান্যবারের তুলনায় বেশি হয়ে যাচ্ছে। বর্তমান বাজারমূল্য যা আছে তাতে চাষিদের লোকসান হবে না। তবে দাম কমে গেলে চাষিরা সমস্যায় পড়বেন। পাট জাগ (পচানো) দিতে তীব্র পানি সংকটে পড়েছেন পাটচাষিরা।

চাটমোহরে ট্রেনের ধাক্কায় মহিলার মৃত্যু
রাজশাহী-ঢাকা রেলপথের চাটমোহর উপজেলার গুয়াখড়া রেলস্টেশনের পশ্চিম পাশে আন্তঃনগর বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় আকলিমা খাতুন (৩৫) নামের এক মহিলার হয়েছে। রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ দূর্ঘটনা ঘটে। নিহত আকলিমা গুয়াখড়া রেলওয়ে স্টেশনের পাশে রেলের জায়গায় বসবাসকারী সিএনজি চালক আঃ মান্নানের স্ত্রী।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকলিমা পাট ছিলতে বাড়ি থেকে রেললাইনের পাশ দিয়ে স্টেশনের পশ্চিমের মাঠে যাচ্ছিলেন। এ সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সামনে থেকে তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

 

 

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this:

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD