গ্রাম- গঞ্জে বিদ্যুৎবিল নেওয়ার সময় ষোল আনা, আর বিদ্যৎ দেওয়ার সময় তালবাহানা

সলঙ্গা(সিরাজগঞ্জ) থেকে মোঃ ফারুক আহমেদঃ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা গ্রাম – গঞ্জের জনসাধারণ বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।  থানার প্রায় প্রতিটি এলাকায় কমবেশি লোডশেডিং হলেও আমশড়া, নইপাড়া, চুনিয়াখাড়া,বেতুয়া, রহিবাদ, নলিয়াদিঘি,চকনিহাল,খুর্দ্দশিমলা, রৌহদহ, আগুরপুর বনবাড়িয়াসহ বেশকিছু এলাকায় এর মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
গ্রামবাসির অভিযোগ জনবল সংকট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা গাফিলাতি এবং বিতরণ ও সঞ্চালন ব্যাবস্থার ক্রটির কারণে, দৈনিক গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও বেশির ভাগ সময়  লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ আসা যাওয়ার কাজে বেশি ব্যস্ত সময় পার করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেয়েছে।    কিন্তু এ অভিযোগ মানতে নারাজ সলঙ্গা সাবজোনাল অফিসের কর্মকর্তারা এ,জি,এম,কম আব্দুল হামিদ।
তিনি বলছেন, গ্রাম – গঞ্জে এখন কোন লোডশেডিং নেই।   রোমজানের মধ্যে কিছুটা লোডশেডিং থাকলেও এখন স্বাভাবিক রয়েছে।
কিছু গ্রাহক কয়েক মিনিটের লোডশেডিংকে অতিরঞ্জিত করছে।
গ্রাম গঞ্জের লোকজন বলছেন, কখনো নিয়মিত লোডশেডিং আবার কখনো লাইন মেরামতের নামে লোডশেডিং হচ্ছে।
এতে একদিকে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ব্যঘাত ঘটছে। অন্যদিকে, গৃহস্থলী কাজ করতেও বিভিন্ন ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।   এছাড়া, ধারাবাহিক লোডশেডিংয়ে এলাকার ক্ষুদ্র দোকানদার ও ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
আমশড়া গ্রামের বাসিন্দা আমশড়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার ফাজিল ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী অব্দুল্লাহ সাপ্তাহিক চলনবিল বার্তাকে  বলেন, গত ‘মঙ্গলবার (০৫ জুন)  দিন রাত বুধবার সকল ০৮ পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না।   এছাড়া কয়েক দিন যাবৎ দিনে- রাতে বেশি ভাগ সময় বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করেছে।   শুধু কালকে নয়, অধিকাংশ সময়ে এ ধরণের ঘটনা ঘটে। ’
আমশড়া জোরপুকু বাজরের একটি লেদ ও  গ্রিল ওয়ার্কশপের মালিক ছানোয়ার হোসেন দৈনিক সাপ্তাহিক চলবিল বার্তাকে বলেন, ‘দূর্বিষহ অবস্থার মধ্যে আমাদের দিন কাটছে। বিদ্যুতের যন্ত্রণায় প্রায় ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার অবস্থা।   প্রতিদিন বেশ কয়েক ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।   আর কিছুক্ষণ পর পর বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতো আছেই। ’এতে করে পুরো রায়গঞ্জ উপজেলাবাসী বিশাল এলাকার বিপুল জনগোষ্ঠীকে দুঃসহ গরম দিন – রাত লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা সহ্য করতে হচ্ছে। হজম করতে হচ্ছে ভুয়া ভূতুড়ে গায়েবি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলসহ নানা সমস্য। লাইনম্যান ও রিডিং এবং বিল বিতরণের লোকবল সংকটের কারণে কাঙ্খিত গ্রাহসেবা দিতে পারছে না।
একই  এলাকার বাসিন্দা মিলমালিক ফেরদাউস আলী সাপ্তাহিক চলন বিল বার্তাকে বলেন, দিনে ও রাতের বেলায় কিছুক্ষণ পর পর বিদ্যুতের আসা যাওয়ায় রাইচ মিলচালানোসহ এলাকার জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।  এর ফলে ছাত্র/ছাত্রীদের পড়ালেখার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ’
খুদ্দর্শিমলা গ্রামের  সুলতান মাহমুদ সাপ্তাহিক চলন বিল বার্তাকে  বলেন, ‘গত কয়েকদিন বিদ্যুতের আসা যাওয়া পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।   বারবার বিদ্যুৎ আসা যাওয়ার ফলে ফ্রিজসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ’গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
রহিমাবাদ এলাকার বাসিন্দা খোন্দকার আফজাল হোসেন  সাপ্তাহিক চলন বিল বার্তাকে বলেন, ‘সলঙ্গা থানার গ্রাম – গঞ্জের  বিদ্যুত সমস্যার কথা সবার জানা।   তবে গত কয়েকদিন ধরে সেই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে।   দিনে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার বিদ্যুৎ থাকলেও বেশির ভাগ সময় লোডশেডিং এর পাশাপাশি বিদ্যুতের ভেলকিবাজি দুর্ভোগকে বৃদ্ধি করেছে। তাছাড়া তিনি আরো অভিযোগ করে এই প্রতিনিধিকে জানান, গ্রাম – গঞ্জে বিদ্যুৎ বিল নেওয়ার সময় ষোলআনা অার বিদ্যুৎ দেওয়ার বেলায় তালবাহানা। বিদ্যুৎবিল দেওয়ায় একটু দেরি হলে গ্রাহকের বিদ্যুৎলাইন কেটে দিতে হয় না তাদের কোনো দেরি।
গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে সলঙ্গা শাখা বিদ্যুৎ সমিতির  এ,জি,এম কম আব্দুল হামিদ সাপ্তাহিক চলন বিল বার্তাকে  জানান, রায়গঞ্জ সলঙ্গাতে যে বিদ্যুৎতের চাহিদা রয়েছে তা ভালো। কিন্তু গরম বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়।   যতটুকু বিদ্যুৎতের সমস্য হচ্ছে তা মেঘের কারণে বিদ্যুৎ চুমকালে বিদ্যুৎ লাইনের উপর যে কড়ি থাকে তা পুরে যায়। সেই কারণে  বিদ্যুৎ লাইন মেরামত করতে একটু সময় লাগে। এই জন্য বিদ্যুৎতের গ্রাম – গঞ্জে কিছুটা লোডশেডিং হয়ে থাকে।   কিন্তু বর্তমানে গ্রাম – গঞ্জে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা দেওয়া হচ্ছে।   লোডশেডিং এর বিষয়টি সত্য নয়।
তিনি আরো বলেন, ‘দুই একটি এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে লোডশেডিং হলেও সেটি মেরামত কাজের কারণে।   তবে সেটি ক্ষণস্থায়ী। ’

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this:

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD