তাড়াশ পৌরসভার অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্তে দুদক

তাড়াশ প্রতিনিধি :

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে পৌরসভা গঠিত হয় ২০১৭ সালে। এখনও নির্বাচন হয়নি। কার্যক্রম চলছে প্রশাসক দিয়ে। এ অবস্থায় পৌরসভার উন্নয়ন ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনায় অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যেই অভিযোগের তদন্তে নেমেছে দুদক।

২০১৭ সালে তাড়াশ উপজেলার সদর ইউপির অধিকাংশ এলাকা এবং বারুহাস ও মাধাইনগর ইউনিয়নের একাংশ মিলে গঠিত হয় তাড়াশ পৌরসভা। এ কারনে সীমানা জটিলতা দেখা দেওয়ায় থেমে আছে নওগা ও তাড়াশ সদর ইউপির নির্বাচন। একই কারনে পৌর পরিষদের নির্বাচনও হচ্ছে না। পৌরসভা গঠিত হলেও ৬ বছরেও ভবন নির্মান হয়নি। উপজেলা পরিষদের একটি কক্ষে স্থাপিত হয়েছে অস্থায়ী অফিস। অভিযোগ রয়েছে, কোন প্রকার পৌর সেবা পাচ্ছেন না নাগরিকরা। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পৌরসভায় উন্নীত হওয়ায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সেবা দেন পৌরসভায়, আর বেতন নেন ইউপি থেকে। পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অবজ্ঞার কারনে তাদের মনেও রয়েছে নানা ক্ষোভ ও হতাশা।

তাড়াশ সদরের দন্ত চিকিৎসক মফিদুল ইসলাম জানান, শুধু নামেই পৌরসভা। সব কিছু চলছে আগের মতই। বাড়তি কোন সেবা কার্যক্রম নেই। পৌর এলাকায় চলাচলকৃত যানবাহন থেকে পৌর টোল আদায় এবং ট্রেড লাইন্সেস দিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায় ছাড়া পৌরসভার কার্যক্রমে আর কিছু তো চোখে পড়ে না।নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক প্রভাষক বলেন, নতুন পৌরসভার নাগরিকরা কোন সুবিধা না পেলেও বাজেট বরাদ্দ যা হচ্ছে তা কর্তৃপক্ষই গিলে খাচ্ছে। আমরা দৃশ্যমান কোন পৌর সুবিধা পাচ্ছি না। অনিয়ম ও অন্যায়ের প্রতিবাদ মানুষ কোন সাহসে করবে। দুদক টিম এসে যে তথ্য-প্রমান নিয়ে গেছে, অন্যায়কারীদের শাস্তি দেওয়ায় জন্য তাই যথেষ্ট। অপেক্ষায় আছি, দেখি কি হয়।

তাড়াশ সদর ইউপির ২নং ওয়ার্ডের সদস্য আতিকুল ইসলাম বকুল বলেন, পৌরসভার বাজেটে নানা কার্যক্রম চললেও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হয় না। পৌর সচিব একাই সব কিছু নিয়ন্ত্রন করেন। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো সভা করে। কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের মতামতের কোন গুরুত্ব দেয়া হয় না। সচিবের পছন্দের লোকদের দিয়ে টি আরসহ অন্যান্য প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এতে নয়-ছয় হলেও দেখার কেউ নেই।তাড়াশ সদর ইউপির ১নং ওয়ার্ডের সদস্য জালাল উদ্দিন বলেন, আমরা এখনও ইউনিয়ন পরিষদ থেকেই সম্মানী ভাতা পাই। পৌরসভা চলে সচিবের একক নির্দেশনায়। কোন প্রকল্পে সভাপতি করা হলেও আমাদের মতামতের কোন গুরুত্ব দেয়া হয় না।

উল্লাপাড়া সরকারী আকবর আলী কলেজে ছাত্রদল থেকে নির্বাচিত সাবেক ভিপি আশরাফুল ইসলাম ভূইয়া তাড়াশ পৌরসভা গঠনের পর থেকে গত ৬ বছর যাবত পৌর সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন।তাড়াশ পৌরসভার সচিব বলেন, দুদকের টিম প্রকৌশল শাখার মাধ্যমে নির্মিত রাস্তা-ঘাট, পিআইও শাখার প্রকল্প সমূহসহ ২১টি প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন এবং এসব প্রকল্পের নথিপত্র নিয়ে গেছেন।

অনিয়ম ও দূর্নীতি প্রসঙ্গে বলেন, আমরা সব কিছু স্বচ্ছ ভাবে করছি, কোন অনিয়ম বা দূর্নীতি হয়নি। সব জায়গাতেই কিছু খারাপ লোক থাকে, তারাই হয়তো দুদকে অভিযোগ দিয়েছে।বাজেট অধিবেশন না হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ১০জন জনপ্রতিনিধি অটো হিসাবে পৌরসভায় যুক্ত হয়েছেন। পৌরসভায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় উন্মুক্ত বাজেট অধিবেশন করা হয় না।মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা বাজেট প্রসঙ্গে বলেন, প্রতি বছর ১ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আগের বছরগুলোতে পাওয়া কিছু টাকা খরচ হয়েছে। চলতি অর্থ বছরের টাকা এখনও খরচ করা হয়নি।

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মেজবাউল করিম বলেন, তাড়াশ পৌরসভার বেশ কিছু উন্নয়ন কার্যক্রম টিআর প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তাই টেন্ডার করা হয়নি। দুদক টিম কিছু কার্যক্রম দেখার জন্য এসেছিল। তারা আমাদের কাজে সন্তোষ প্রকাশ করে চলে গেছেন।একই অফিসে পৌর সচিব ৬ বছর থাকার প্রসঙ্গে পৌর প্রশাসক বলেন, মন্ত্রনালয়ে সিদ্বান্তে তিনি এখানে আছেন। এ বিষয়ে তারাই ভাল বলতে পারবেন।দুদক সিরাজগঞ্জ-পাবনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিএডি মোস্তাফিজুর রহমান ১১ এপ্রিল সরজমিন তাড়াশ পৌরসভা পরিদর্শনে আসেন। মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তাড়াশ পৌর শিশুপার্ক, অফিসার্স ক্লাব, পৌর এলাকায় আলোকবাতি স্থাপনসহ আরো বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করেছি। ৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার বিধান থাকায় ইতোমধ্যে ঢাকা অফিসে প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে বিস্তারিত তথ্য জানাতে রাজী হননি এই দুদক কর্মকর্তা।

 

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this:

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD